মেইন ম্যেনু

শ্রেণি শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ৩০ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত-গলাধাক্কা

লক্ষ্মীপুর: রামগঞ্জে শ্রেণি শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় বেত্রাঘাত করে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন ওই শিক্ষক। বেতাঘাতে অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মা (ইউএনও) আবু ইউসুফ।

আহতরা সবাই রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দশম শ্রেণির ফাহাদ হোসেন, ইমন হোসেন, আরমান হোসেন, মিজান হোসেন, সপ্তম শ্রেণির তুহিন হোসেন, এমরান হোসেন, সামাদকে বেশি নির্যাতন করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে পানপাড়া উচ্চ বিদ্যলায়ে পরীক্ষা চলাকালিন ওইসব শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করেন শ্রেণি শিক্ষক মো. সোলেমনা। পরে তিনি জোর করে কেন্দ্র থেকে তাদের বের করে দেন।

স্থানীয়রা জানায়, পানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সোলেমান কয়েকদিন ধরেই তার কাছে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার কাছে প্রাইভেট পড়তে রাজি নয়। এতে ওই শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

এক পর্যায়ে সোমবার বিকেলে পরীক্ষা চলাকালিন কেন্দ্রে ঢুকে সপ্তম ও দশম শ্রেণির ওইসব শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি বেতাঘাত করতে থাকেন। এরপর পরীক্ষা কেন্দ্রে থেকে বের করে দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন প্রায়ভেট হাসপাতালে ভর্তি করায়।

অভিভাবক জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘পানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের বেতাঘাত করেন। সেমাবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক সোলেমান বেত নিয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। সেই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা উল্টো আমাদের সন্তানের পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক সলোমান বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বে রয়েছি। প্রাইভেট নয় স্কুল ড্রেস না পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসায় ভয় দেখানোর জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বেত্রাঘাত করেছি। অসর্তকতাবসত আঘাতগুলো জোরে হয়েছে।’

রামগঞ্জ ইউএনও আবু ইউসুফ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’






মন্তব্য চালু নেই