মেইন ম্যেনু

সংশোধিত এডিপিতে কমছে ৩২ মন্ত্রণালয়-বিভাগের বরাদ্দ

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাঁটছাট করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে মূল এডিপি থেকে ৩২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ছাঁটা হচ্ছে। আর বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। তৈরি হতে যাওয়া সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) এটি করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সংশোধিত এডিপি প্রণয়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রথম কল নোটিস তৈরির কাজ চলছে। খসড়া তালিকায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। খসড়া চূড়ান্ত করা হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের ভিত্তিতেই বরাদ্দ কমানো-বাড়ানো হবে।

যদিও গতি বাড়াতে এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি, প্রকল্প পরিচালকদের দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ, বিদেশী অনুদান নির্ভর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে বাস্তবায়নাধীণ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ নেয়াসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কীভাবে সময়মতো শেষ করা যায় তার একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, অর্থবছরের শুরুতেই ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করলে প্রথম তিন মাসেই তা শেষ হবে। এছাড়া অর্থবছরের শুরুতেই সামগ্রিক কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে সহজে বোঝা যাবে বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জটা কোথায়। এ কাজগুলো মাঝপথে শুরু করলে স্বাভাবিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী ওই সময় আগামীতে প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে ওই প্রকল্পের ভূমিকা কি হবে তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তা হাতে নেয়ার কথা বলেছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকারের এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৪ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে ৭৬ শতাংশ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এডিপি।

গত বছর এ সময়ে এডিপিতে খরচ হয়েছিল ২৮ শতাংশ অর্থ। তার আগের অর্থবছরে হয়েছিল ২৫ শতাংশ। এর আগে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ আট অর্থবছরের মধ্যে এবার বাস্তবায়ন হার সর্বনিম্ন।

আইএমইডি’র তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে এডিপিতে মোট খরচ হয়েছে ২৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ হাজার ৮০৮ কোটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ থেকে ছয় হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে খরচ করতে হবে আরো ৭৭ হাজার ২২০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ধরা হয়েছে এক লাখ ৯৯৭ কোটি টাকা। আইএমইডির তথ্যে দেখা যায়, অর্থবছরের ছয় মাসে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যেখানে খরচ হয়েছে ২৫ শতাংশ অর্থ, সেখানে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ থেকে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। এমনকি অর্থবছরের ছয় মাস পরেও আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন হার এখনো ১০ শতাংশের নীচে। ২০ শতাংশের নীচে বাস্তবায়ন হার রয়েছে ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। আর সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০টি বিভাগের বাস্তবায়ন হার মাত্র ২৫ শতাংশ। অথচ এসব বিভাগে মোট এডিপি’র ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে।

এই অবস্থায় অর্থবছরের বাকী সময়ে শতভাগ এডিপি অর্জনে পিছিয়ে পড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন তদারকি করে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রথম কল নোটিস অনুযায়ী প্রস্তাবিত সংশোধিত এডিপিতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ কাটছাঁট হতে যাওয়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণবিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় প্রভৃতি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, প্রতিবছরই এডিপির আকার ছোট করা হয়। তবে এটি বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ায় করা হয়। এক বছর আগে নেওয়া অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনেক সময় সঠিক পথে থাকে না।

তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরুর দিকে বরাদ্দ দেয়া হয়, কিন্তু মাঝামাঝিতে এসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বুঝতে পারে তারা কি পরিমাণ খরচ করতে পারবে। তখন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বরাদ্দ অর্থ থেকে কিছুটা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেয়। সেই অর্থ আবার যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বেশি ব্যয় করতে পারে তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। এটি অর্থ ব্যবস্থার একটি ভাল দিক। কেননা, এতে করে বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয় হয় না।

প্রস্তাবিত সংশোধিত এডিপিতে যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বাড়ছে সেগুলো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, সড়ক বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রভৃতি।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মূল এডিপি থেকে ৩৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ছাঁটা হয়। বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় ১৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। গত অর্থবছরে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার এডিপি গ্রহণ করে সরকার। পরে সংশোধিত এডিপি দাঁড়ায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা।






মন্তব্য চালু নেই