মেইন ম্যেনু

‘সংসদ কর্তৃক বিচারক অপসারণ ইতিহাসের দুর্ঘটনা’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, সংসদ কর্তৃক বিচারকগণের অপসারণের বিধান ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র, যদিও পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে তা বিদ্যমান।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রায়ের পর্যবেক্ষণে একথা বলেন।

হাইকোর্ট বলেন, `কমনওয়েলথভুক্ত মেজরিটি দেশে সংসদের মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ করা হয় না। ৬৩ শতাংশ দেশে এ প্রক্রিয়ায় বিচারক অপসারণ করা হয় না।

রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে আমাদের দেশের সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না। দল যে সিদ্ধান্ত নেয় সে পক্ষেই তাদের ভোট দিতে হয়, এমনকি তারা যদি বিষয়টি সঠিক মনে নাও করেন। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বহাল থাকলে বিচারপতিদেরকে সংসদ সদস্যদের করুণাপ্রার্থী হতে হবে।

রায়ে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর কিছু কিছু দেশে সংসদের হাতে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ওইসব দেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আমাদের সংসদ সদস্যদের মেলানো ঠিক হবে না। ওইসব দেশের সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। ওইসব দেশে আমাদের ৭০ অনুচ্ছেদের মত কোনো বিধান নেই।

হাইকোর্ট বলেন, সংবিধানের ৯৫(২) সি অনুচ্ছেদে বিচারক নিয়োগে আইন প্রনয়ণের কথা বলা আছে। ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেছেন কোনো সরকার এই আইন করেনি। এ ব্যাপারে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একমত পোষণ করি।

ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে আদালতের অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘প্রথমত: কোনো জাতীয় ইস্যুতে আমাদের মধ্যে ঐক্যমত নেই। দ্বিতীয়ত: আমাদের সমাজ সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত। তৃতীয়ত: কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে এই আইন কার্যকর হবে না।

সংসদের মাধ্যমে বিচারক অপসারণে শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া ও ভারতের সৃষ্ট জটিলতার উদাহরণ টেনে আদালত বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর কারণে আমাদের দেশেও এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংশোধনী বিচার বিভাগকে নাজুক অবস্থায় ফেলে দেবে। আদালত এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে একইসঙ্গে বলেন, বিচারপতি অপসারণের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পদ্ধতি উত্তম পন্থা।

আদালত বলেন, বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে সংশোধনীর বিষয়ে জনগণের ধারণা কি? যদি জনগণ এটা মনে করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে, তাহলে বিচার বিভাগ টিকতে পারে না। ষোড়শ সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থী। ফলে সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হল।






মন্তব্য চালু নেই