মেইন ম্যেনু

সকালে উঠতে কেন এত অপছন্দ করি আমরা?

সকালে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, একথা জানি আমরা সবাই। একজন মানুষের জন্য ৮ ঘন্টা ঘুমই যথেষ্ট। তবু আমাদের অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। কোনদিন সকালে উঠতে হলে অসুস্থ বোধ করেন, মেজাজ খারাপ থাকে। অবশ্য এমন মানুষও আছেন যারা দিব্যি সকালে ঘুম থেকে উঠে যান এবং কাজ করা শুরু করে দেন তখন থেকেই। কিন্তু কিছু মানুষ কেন কখনোই সকালে উঠতে পছন্দ করেন না? বরং রাত জেগে থাকেন সহজেই। কোনটি স্বাভাবিক? সকাল বেলার পাখি নাকি রাতের পেঁচা? আসুন জেনে নিই, গবেষণা কী বলছে এ ব্যাপারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বের হয়ে এসেছে মজার তথ্য। গবেষকরা বলছেন, বেশীরভাগ মানুষের প্রকৃতির নিয়মকে ভেঙ্গে জীবন পরিচালনা করে চলেছেন। এতে করে অনেক রকমের শারীরিক-মানসিক সমস্যা হতে পারে তাদের। যেমন- উদ্বিগ্নতা, ওজন কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সকালে ঘুম থেকে ওঠা মানুষের স্বাস্থ্যঝুকি বাড়াতে পারে। গবেষকরা বয়স অনুযায়ী ভাগ করেছেন মানুষের ঘুম থেকে জাগার সময়কে। ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুরা সকাল ৮.৩০ থেকে স্কুল শুরু করতে পারে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের কাজ শুরু করা উচিৎ সকাল ১০টার পর। বয়স্করা আরও দেরিতে কাজ শুরু করতে পারেন। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের কাজ শুরু হওয়া উচিৎ সকাল ১০ টার পর থেকে।

একটা বয়সের পর ঘুম আর নির্বিঘ্ন হয় না। ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণরা প্রতিরাতে ২ ঘন্টা ঘুম ঘন্টা হারিয়ে থাকেন। ২৪ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই বিঘ্ন ঘটে সব মিলিয়ে দেড় ঘন্টার মত। এই ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে নিতে চায় শরীর পরের রাতের ঘুমের সাথে। তাই যতই আপনার কাজ থাকুক, এলার্মের সাথে সাথে জেগে উঠতে চায় না সে।

গবেষকরা আরও মনে করেন, কম্পিউটার, ফোন সহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সামনে আমরা যে সময় ব্যয় করি তাও আমাদের ঘুমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘুমকে নির্বিঘ্ন করতে চাইলে ঘুমাতে যাওয়ার ১ ঘন্টা আগেই সমস্ত ডিভাইস থেকে সরে আসুন। মোবাইল বন্ধ করুন, কম্পিউটারের কাজ গুছিয়ে নিন। চোখকে আরাম দিন। আপনার ঘুম যত নির্বিঘ্ন হবে তত সময়মত জেগে উঠতে পারবেন আপনি। তাই ঘরের আবহাওয়া ঘুমের উপযোগী করা, আলো নিভিয়ে রাখা, প্রশান্তি দেয় এমন গান শোনাসহ অনেক উপায় অবলম্বন করতে পারেন আপনি। এতে আপনার ঘুম পরিপূর্ণ হবে আর পরেরদিন ঘুম থেকে উঠতে শরীরও বিপত্তি ঘটাবে না!



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই