মেইন ম্যেনু

হজে অনিয়ম

সচিবের আঙুল ধর্মমন্ত্রীর দিকে

এবার হজে শেষ সময়ে পাঠানো পাঁচ হাজার জনের বাড়ি ভাড়া থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের জবাবে শুধু নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান।

“সময় তো ছিল না, ৫ হাজার হজযাত্রী প্রেরণ সবচেয়ে জরুরি বিষয় ছিল। এটা কিছু অনিয়ম হতেই পারে। এ ব্যাপারে আমার কোনো ‘ইয়ে’ নাই,” এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি।

বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি মন্ত্রী মতিউর রহমানের তদারকিতে হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তি মন্ত্রীকে কিছু বললে তার কিছু করার থাকে না।

এবার হজে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২ হাজার জন যাওয়ার কথা থাকলেও গমনেচ্ছু বেশি হওয়ায় শেষ সময়ে আরও পাঁচ হাজার জনকে পাঠানো হয়।

সৌদি আরবে ওই পাঁচ হাজার জনের বাড়ি ভাড়া থেকে ৬ কোটি টাকা (প্রতি জনের ১২ হাজার টাকা) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখে পড়েন ধর্ম সচিব বাবুল হাসান।

এবার হজে বেসরকারি পর্যায়ে যেতে প্রতিজনকে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। সরকারিভাবে যে এক হাজার জন গেছেন, তাদের খরচ ছিল কিছুটা কম।

বাড়ি ভাড়া থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সচিব প্রথমেই বলেন, বাড়ি ভাড়া যখন হয়, তখন তিনি সৌদি আরবে ছিলেন না।

ঢাকার আশকোনায় হজ ক্যাম্পে অপেক্ষারত এদের কেউ কেউ শেষ সময়ে হজে যাওয়ার সুযোগ পান।

“মন্ত্রী চলে গেলেন, কিন্তু আমি যেহেতু সরকারের সচিব, পারমানেন্ট পোস্ট হোল্ড করি, এই জন্যই দেখলাম যে, আমার দায়িত্বটা একটু বেশি। এই জন্যই আমি যেতে পারিনি (বাড়ি ভাড়া করার সময়)। যাইনি।”

“বাড়ি ভাড়া সব কিছু হয়ে যাওয়ার পর আমাদের ভিসা হয়েছে। বাড়ি ভাড়াটা কয়েকজনের কমিটি, নির্বাচিত যারা হাবের, তারা আর অনির্বাচিত, এই বাহিনী বেশি শক্তিশালী।”

এজন্য মন্ত্রী ১০ জনের একটি কমিটি করে দেন জানিয়ে সচিব বলেন, “উনারা বাড়ি ভাড়া করেছেন, বেশি কম ওই সময় হতেই পারে। করেছেন কিন্তু উনারা। বিশেষ করে, আমি যতটুকু জানি, বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বেশি আলাপ করেছিলেন জামাল সাহেব। সাবেক সভাপতি বোধহয় (হাবের)।”

অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী কমিটি-টমিটি সবাইরে লাগাইছেন যে, বাড়ি ভাড়া কর। কত হওয়া উচিত ছিল, কী হইছে, সেই আলাপে যাচ্ছি না। যেহেতু মন্ত্রী মহোদয় সব করছেন…”

সচিব হিসাবে দায়িত্ব আসে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “তা তো আসেই, যেহেতু ইনচার্জ মিনিস্টার কিছু করলে আমাদের আর সে (say) থাকে না কিছু বলার। সরকার যদি করে করবে।”

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান দেশে থাকলেও সংবাদ সম্মেলনের সময় মন্ত্রণালয়ে ছিলেন না। এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এবারের হজ মিশনের কাজ আগামী ২৮ অক্টোবর শেষ হবে বলে জানান ধর্ম সচিব।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম সচিব বাবুল হাসান জানান, এবার হজের মধ্যে মিনায় পদদলনে ৭৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া রোগসহ বিভিন্ন কারণে মারা গেছেন ১২৯ জন।

এবার হজে দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। ২৪ সেপ্টেম্বর মিনায় পদদলনে সাড়ে ৭ শতাধিক নিহত হওয়ার আগে মসজিদ আল- হারামে ক্রেইন উল্টে পড়ে মারা যান ১১৭ জন।

ক্রেইন উল্টে এক বাংলাদেশি নিহত হন। মিনায় পদদলনে নিহত সব বাংলাদেশিকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ লাশ উদ্ধারের পর ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে এবং তাদের শনাক্ত করার জন্য ছবি প্রকাশ করে। তা থেকে পরিচয় শনাক্ত করে হজ কর্মকর্তা ও এজেন্সিগুলো।

লাশ ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, কোনো হাজির মৃতদেহ সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে পাঠানো হয় না।

“ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশ এ অনুমতি পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশও এ পর্যন্ত অনুমতি পায়নি। মৃতের পরিবার ফেরত আনার আবেদন করেছে বলেও আমার জানা নেই।”

এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাতে পারবে বলে সাংবাদিকদের বলেন ধর্ম সচিব।

“ইরান চেয়েছে, তাই তারা পেরেছে। আমাদের সরকার চায় কি না, তা জানতে হবে। সে প্রশ্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে করুন।”






মন্তব্য চালু নেই