মেইন ম্যেনু

সদর উপজেলা প্রশাসনের রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রতিকার

আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের ‘ফেসবুক পেজে’র ইনবক্সে রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ করে একটি স্টাট্যাস দেওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তার সমাধান করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। শুধু তাই নয়! রাস্তার সকল ৩ নম্বর ইট এবং নম্বর বিহীন বাতিল রেইন স্পটইটের খোয়া অপসারণের কাজও শুরু হয়েছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে নাগরিক অভিযোগের এটাই প্রথম প্রতিকার বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী। তিনি বলেন, আগে ফেসবুকের মাধ্যমে নাগরিকের অভিযোগ ও মন্তব্য দিতে পারতো এবং গ্রহণ করা হতো। আর এখন থেকে নাগরিক অভিযোগের প্রতিকারও করা হবে।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের কলেজ পড়–য়া এক শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ ও ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানান, ‘উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের লবণগোলা হতে হাটখোলা কার্পোটেড রাস্তা পর্যন্ত ১.১০কি.মি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী নিজে ছুটে যান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে। পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন ৩ নম্বর ইট এবং নম্বর বিহীন বাতিল রেইন স্পটইটের খোয়া দিয়ে এ রাস্তা নির্মাণ কাজ চলছে।’

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী ‘সদর উপজেলা প্রশাসনে’র ফেসবুক পেজ-এ স্টাট্যাস দেন যে, ‘রাস্তা নির্মাণে দিতে হবে পিকেটের খোয়া, দিচ্ছে ৩ নম্বর ইট এবং নম্বর বিহীন বাতিল রেইন স্পটইটের খোয়া। কি দুর্ভাগ্য আমাদের!!! ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের লবণগোলা হতে হাটখোলা কার্পোটেড রাস্তা পর্যন্ত ১.১০কি.মি রাস্তা। উপজেলা প্রকৌশলী জানালেন ঠিকাদার ঈদের ছুটির মধ্যেই কাজের প্রধান অংশ করে ফেলেছেন!!! রাস্তা বানিয়ে ফেলছেন, প্রকৌশলীর প্রয়োজন হচ্ছেনা!!!

ম্যাকাডামের প্রথম লেয়ার করেছেন, দ্বিতীয় লেয়ারও করে ফেলেছেন। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী জানালেন প্রথম লেয়ারেরই প্রত্যয়ন তিনি দেননি। তাহলে দ্বিতীয় লেয়ারের কাজ শুরু হলো কীভাবে? এই নিম্ন মালের ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা তৈরীর কাজ করায় স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।’

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী বলেন, ‘এই কাজটি উপজেলা পরিষদের নয়! এটা সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর মহোদয়ের অফিসের কাজ। উপজেলা প্রকৌশলীকে এই নিম্ন মানের ইটে দিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আমি একটি প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করেছি।

উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অবশেষে মঙ্গলবার (১৯জুলাই) এই রাস্তার নিম্ন মানের সকল খোয়া অপসারণর কাজ শুরু হয়েছে এবং নতুনভাবে রাস্তাটি নির্মাণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, রাস্তা, ব্রিজ, ভবন নিম্নমানের বানানোর চেয়ে না বানানোই উত্তম বলে আমি মনে করি। কেননা নিম্নমানের অবকাঠামো অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব রাখবে।






মন্তব্য চালু নেই