মেইন ম্যেনু

সন্তানকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ভালো নয় যেসব কারণে

শিশু সন্তানের সাথে মায়ের সম্পর্কটা আরো ভালো হয় যদি মা তার সন্তানের স্বাধীনতার বিষয়টিকে সম্মান করে- ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় এমনই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এই গবেষণার মতে, যে মায়েরা তাদের সন্তানদের ২ বছর বয়স থেকেই স্বাধীনতা দেন তাদের অনেক বেশি ইতিবাচক হতে দেখা যায়।

এই গবেষণায় ২০০০ মা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে করা হয়। গবেষকেরা পর্যবেক্ষণ করেন মায়েরা ২ বছর বয়সের সন্তানের খেলাধুলাও কতটা নিয়ন্ত্রণ করেন। তারপর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া শিশুদের ইন্টারভিউ নেন তারা তাদের মায়ের সম্পর্কে কি অনুভব করত তা জানার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্যা ডিপার্টমেন্ট অফ হিউমেন ডেভেলপমেন্ট এন্ড ফ্যামিলি স্টাডিজ এর সহকারী চেয়ারম্যান জিয়ান ইস্পা বলে, “যখন মায়েরা ছোট শিশুর খেলাকেও অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ করেন সেই শিশুরা তাদের সাথে কম যুক্ত হতে চায়”। তিনি বলেন, “সন্তানের বৃদ্ধি ও পিতা-মাতার সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক গড়ে উঠার জন্য স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো গুরুত্বপূর্ণ”। তিনি আরো বলেন, “আমরা পেয়েছি, যে মায়েরা সন্তানকে অনেক বেশি আদেশ বা নির্দেশ দেন তাদের চেয়ে যারা সন্তানের ব্যক্তিস্বাধীনতায় সহযোগীতা করে তাদের সন্তানরা অনেক বেশি ইতিবাচক হয়”।

ইস্পা লক্ষ্য করেন যে, “শিশু সন্তানকে অনেক বেশি নির্দেশ দিয়ে থাকেন যে মায়েরা সন্তান যখন কৈশোরে পদার্পণ করে তখন ও তাদের(মায়ের) মধ্যে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যায়”। ছোট শিশুদের মায়েরা শারীরিকভাবেও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এই সন্তান যখন বড় হতে থাকে তখন তাদের মৌখিক ও মানসিকভাবেও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এর ফলে তারা তাদের মনের কথা বলতে পারেনা। ইস্পা বলেন, “এতে অবাক হওয়ার কিছুই নাই যে তাদের সন্তানেরা তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে”।

সম্প্রতি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, এটা মনে করবেন না যে পিতা-মাতা সন্তানের জন্য নিয়ম স্থাপন করতে পারবেন না বা পরামর্শ দিতে পারবেন না। রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ী আসছে কিনা দেখতে বলা তাদের সম্পর্কের উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে না।

মানসিক নিয়ন্ত্রণ যেমন- অপরাধবোধের কথা বলা বা সন্তান কী চিন্তা করবে বা অনুভব করবে তা বলা অথবা নির্দিষ্ট নিয়মে খেলার কথা বলা – এগুলোই মা ও সন্তানের সম্পর্ককে নষ্ট করে।

ইস্পা বলেন, “অনেক বাবা-মা মনে করেন, এই ধরণের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি আসলে কার্যকরী নয়”।

তিনি আরো বলেন, “শিশুদের স্বায়ত্তশাসনের বয়স উপযোগী মাত্রায় হওয়া প্রয়োজন যার ফলে তারা নিজেরা নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা বিজ্ঞের মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তখনই যখন তাদের পরিণতি সম্পর্কে শেখানো হবে”।

তিনি পরামর্শ দেন, “সন্তানের সাথে খোলামেলা আলোচনা করাটাই হচ্ছে পিতা-মাতার জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা এবং সন্তানকে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের অনুমতি দেয়া”। যখন সন্তানকে নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন হবে তখন তাকে এর কারণটি বুঝিয়ে বলুন।প্রিয়.কম






মন্তব্য চালু নেই