মেইন ম্যেনু

সন্তানকে সুশৃঙ্খল রাখুন কিছু কৌশলে

প্রত্যেক সচেতন পিতামাতাই তাদের সন্তানকে শৃঙ্খলা শিখানোর জন্য বাসায় কিছু নিয়ম কানুন এর প্রচলন করেন। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বে গতানুগতিক নিয়মগুলোর অধিকাংশই তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। আধুনিক যুগের শিশুরা যথেষ্ট স্মার্ট। তাই তাদেরকে বোকা বানানো সহজ কাজ নয়। বরং তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তির মাধ্যমে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিছু অভিভাবক ইতিমধ্যেই কিছু বিচিত্র নিয়ম চালু করেছেন বাসায় তাদের ছেলেমেয়েদের শৃঙ্খলা শিখানোর জন্য। এই নিয়মগুলো এমন যে এগুলো অনুসরণ করা ছাড়া আর অন্য কোন বিকল্প নাই। আজ আমরা এমন কিছু বিচিত্র শৃঙ্খলা বিধির কিছু নিয়ম এর উদাহরণ জেনে নেই আসুন যা বিশেষজ্ঞরা ও অভিজ্ঞ পিতামাতারা কাজে লাগিয়েছেন।

১। আপনার সন্তান যদি ঘ্যানঘ্যান করে বিরক্ত করে তাহলে তাকে বলুন, “তুমি কেন ঘ্যানঘ্যান করছো আমি বুঝতে পারছিমনা, আমি তোমার কথা শুনবো যদি তুমি আমাকে ঠিক ভাবে বল”। অভিজ্ঞ অভিভাবক বারবারা রাউলি বলেন”, এটি বলার ফলে আপনার সন্তান বুঝতে পারবে তার গুরুত্ব আছে আপনার কাছে আর আপনিও খারাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন”।

২। আপনি কাজ করার সময় আপনার সন্তানকে বলবেন না যে আমি কাজ করার সময় এই রুমে আসবেনা। বরং টুকিটাকি কাজ করার সময় আপনার সন্তানকে আপনার সাথে কাজ করতে বলুন। এর ফলে দুটি কাজ হবে, সে যদি আপনার সাথে কাজে আগ্রহী হয় তাহলে করবে আর না হলে অন্য জায়গায় গিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হবে।

৩। ঘুমাতে যাওয়ার সময় ঠিক রাখার জন্য আপনি হয়তো বলে থাকেন যে, “ঘুমাতে যাওয়ার সময় হয়েছে তোমরা ঘুমাতে যাও আর আমারও বিশ্রাম নিতে হবে”। এর পরিবর্তে বলুন, রাত ৮ টার পরে আমি আর কাজ করার অনুমতি দেব না, তাই তোমাদের বিছানায় যাওয়া উচিৎ।

৪। আপনার সন্তান যদি খেলাধুলার পরে সব কিছু সঠিক স্থানে রাখতে ভুলে যায় তাহলে ঘরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার জিনিসগুলো রাখার ও খেলার ব্যবস্থা করে দিন এবং তার খেলাধুলা শেষে খেলনা গুলো গুছিয়ে রাখার সময় তাকে সাহায্য করুন। তাহলেই গুছিয়ে রাখার বিষয়টি তার মধ্যে কাজ করবে।

৫। যখন আপনার সন্তান তার নিজের জমানো টাকা খরচ করবে তখন তার বা তাদের সম্ভাব্য ভুলগুলো চিহ্নিত করে পরামর্শ দিতে পারেন। তবে যদি না সেই জিনিসটি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কোন বিষয় না হয় তাহলে কথা না বলাই ভালো এবং তর্ক না করাই উচিৎ। তার পছন্দটি হয়তো খারাপ হয়েছে কিন্তু সে এটার থেকে শিক্ষা পাবে।

৬। খাওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার জন্য আপনি আপনার সন্তানকে এটা বলবেন না যে, ভালো করে খাও না হলে টেবিল ছেড়ে যেতে পারবে না। এর পরিবর্তে বলতে পারেন, “যথেষ্ট পরিমাণে খাও আবার খাওয়ার সময় হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কোন খাবার দিবো না তোমাকে”। এর অর্থ এই না যে তার ক্ষুধা লাগলেও তাকে খেতে দিবেন না। তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ খাওয়া উচিৎ বলেই এই কথাটি আপনি তাকে বলবেন।
এগুলো শুধু মাত্র কয়েকটি উদাহরণ যার মাধ্যমে আপনার সন্তানের মধ্যে শৃঙ্খলা আনতে সাহায্য করবে। আপনি এগুলো প্রয়োগ করে দেখতে পারেন অথবা নিজেই কিছু নিয়ম তৈরি করে নিতে পারেন যা আপনার সন্তান মেনে চলবে বলে মনে করেন। কারণ আপনার সন্তানের জন্য কোন নিয়মটি প্রযোজ্য তা আপনিই ভালো বুঝতে পারবেন যদি আপনি সচেতন হন।






মন্তব্য চালু নেই