মেইন ম্যেনু

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ মায়ের পেটে থাকা শিশুটিও

সন্তানের মুখ দেখতে ঢাকার পথে মা (ভিডিও)

গুলিবিদ্ধ মা নাজমা আক্তার এখন ঢাকার পথে। সাত দিন পর গুলিবিদ্ধ সন্তানের মুখ দেখতে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা দেন মা। সঙ্গে শিশুটির বাবা বাচ্চু ভূঁইয়াও আছেন।

জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম এহ্সান উল্লাহর সার্বিক সহযোগিতায় গুলিবিদ্ধ মা-নবজাতকের সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।

মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ২৩ জুলাই ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন অন্তঃসত্ত্বা মা নাজমা আক্তার (৩৫)। গুলি মায়ের পেটে থাকা শিশুর শরীরও বিদ্ধ করে। সংঘর্ষের ওই ঘটনায় গুলি ও বোমায় আহত নাজমার চাচা শ্বশুর মমিন ভূঁইয়া পরের দিন মারা যান।

অন্তঃসত্ত্বা নাজমা খাতুনকে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয়। সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে পৃথিবীর মুখ দেখে শিশুটি। শিশুটি ঝুঁকিমুক্ত নয় দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনা বলেন, শিশুটির ক্ষতস্থানে বুধবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম। শিশুটির সুস্থ হয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার মাকে।

এর আগে, মঙ্গলবার ডা. কানিজ হাসিনা বলেন, শিশুটির চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিশু সার্জারির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফ-উল-হককে প্রধান করে এ বোর্ড গঠন করা হয়।

কন্যা শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল উল্লেখ করে তিনি ওই সময় বলেন, একটি গুলি তার পিঠ দিয়ে প্রবেশ করে বুক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তবে তার ভেতরের সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষা পেয়েছে। তার হাত, গলা ও চোখে আঘাত আছে। চোখের আঘাত গুরুতর। প্রয়োজনীয় সব বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। শিশুটির ওজন দুই কেজি।

চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার শিশুটির মাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন জেলা পুলিশ সুপার।

নাজমা আক্তার এ্যাম্বুলেন্সে ওঠার আগে বলেন, এতদিন পর আমার সোনামনির মুখ দেখতে পাব ভেবে খুব ভাল লাগছে। আপনারা দোয়া করবেন। একই সঙ্গে তিনি সন্ত্রাসীদের বিচারও দাবি করেন।

পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শিশুটির বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, মেয়েকে পাঠানোর সময় একবার দেখেছি, আর দেখা হয়নি। পুলিশ সুপার উদ্যোগ নিয়েছেন, তাই সন্তানের কাছে যেতে পারছি।

তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিচ্ছে। তিনিও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মাগুরা পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোলাগুলির ঘটনার পরের দিন নিহত মমিন ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূঁইয়া ১৬ জনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সেন সুমনকে (৩২) প্রধান আসামি করা হয়। সেন সুমন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া আজিব্বর শেখ, মুহম্মদ আলীসহ মামলার অন্য আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মী। সংগঠনের পদ-পদবিতে না থাকলেও এরা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকেন।






মন্তব্য চালু নেই