মেইন ম্যেনু

রেশমা হত্যা

সন্দেহের তালিকায় স্বজনরা

বাবার তিন বিয়ে এবং মায়ের আগের পক্ষের দুই মেয়ে ও তাদের স্বামী-এই পারিবারিক সম্পর্কে স্বার্থগত দ্বন্দ্ব থেকেই রাজধানীর মিরপুরে নিজেদের বাসায় কলেজছাত্রী আমেনা খাতুন রেশমা খুন হয়েছেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এরমধ্যে রেশমার সৎভাই রবিন এবং যে বাড়িতে মেয়েটি খুন হয়েছেন সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী মিলনকে আটক করেছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন খান জানান, রেশমার বাবা আলমগীর হোসেনের প্রথম স্ত্রীর ছেলে রবিন। ছোট ভাই রাকিব ও মাকে নিয়ে বাবার চাকরির সুবাদে পাওয়া মিরপুরের বিসিআইসি স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। রবিন প্রায়ই তাদের বাসায় এসে হুমকি-ধমকি দিত বলে অভিযোগ করেছেন রেশমার মা মরিয়ম বেগম। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম ও তার মেয়ে রেশমাকে নিয়ে মিরপুর ২ নম্বরের রাইনখোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আলমগীর। এই ফ্ল্যাট থেকেই গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রেশমার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

আলমগীরের আগে হামিদ নামে আরেকজনের সঙ্গে সংসার বেঁধেছিলেন মরিয়ম। ওই ঘরে তার দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে বেশ আগে। মতিঝিলের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ভবনের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আলমগীরের তৃতীয় স্ত্রী খোদেজা বেগম ঝালকাঠি থাকেন। তার ঘরে ছোট দুই সন্তান রয়েছে।

খোদেজাও মাঝেমধ্যে মরিয়ম ও তার মেয়েকে হত্যার হুমকি দিতেন জানিয়ে ওসি সালাউদ্দিন বলেছেন, রেশমা হত্যায় সন্দেহভাজনদের মধ্যে এই নারীও রয়েছেন। রেশমাকে হত্যার জন্য মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তার মা মরিয়ম। আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ না করলেও এজাহারে তিনি রবিন ও খোদেজাকে ঘিরে তার সন্দেহের কথা লিখেছেন।

ওসি আরো বলেন, মরিয়মের প্রথম স্বামীর ঘরে দুই মেয়ের স্বামীরাও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন। অথবা আলমগীরের তৃতীয় স্ত্রী খোদেজা নিজে কোন খুনিকে নিয়ে অথবা ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন। প্রাথমিক ভাবে ঘুরে-ফিরে তদন্ত শুধু স্বজনদের দিকেই যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ঘটনার সময় রেশমাকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে শুনেছেন পাশের বাড়ির বাসিন্দারা। এক পর্যায়ে রেশমা ফ্ল্যাটের দক্ষিণ দিকের বারান্দায় গেলে এক নারী লাল ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে টেনে ভিতরে নিয়ে যান প্রত্যক্ষদর্শী এক শিশু পুলিশকে জানিয়েছে। বাসা থেকে প্রায় সাত ভরি সোনার গহনা ও বেশ কিছু টাকা খোয়া গেছে বলে মরিয়াম জানিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। রেশমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এসে খুনিরা এসব মালামাল নিয়ে গেছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই