মেইন ম্যেনু

সপ্তম বিয়ের আসর থেকে বর থানায়

প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ায় সপ্তম বিয়ের আসরে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েছেন সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (৪০) নামের এক ব্যক্তি। বিয়ের আসর থেকে পুলিশ তাকে নিয়েছে শ্রীঘরে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই গ্রামে ঘটে এ ঘটনা ঘটে। আটক সিরাজুল ইসলাম রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার মহেশা মীরবাগ গ্রামের তাহের আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে এমএলএসএস পদে কর্মরত। ওই গ্রামের ডিগ্রি পড়ুয়া এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে এলে এলাকাবাসী বরের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় পুলিশ তার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তিন মাস আগে রংপুরের তারগঞ্জ উপজেলার যুব উন্নয়ন কার্যালয় থেকে বদলি হয়ে নীলফামারীর ডিমলায় যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নীলফামারী শহরের দুই কলেজ ছাত্রী, রংপুরের বদরগঞ্জে এক হিন্দু মেয়েসহ প্রতারণা করে ছয় বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তবে কোনো স্ত্রীকে সঙ্গে নেননি তিনি। বিয়ের পর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সেখানে যাওয়া আসা করেছেন। এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন তিনি। প্রতিটি বিয়ে করার সময় ব্যবহার করেছেন আলাদা পরিচয়। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, “ওই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে আমার ইউনিয়নের ডিগ্রি পড়ুয়া এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে আসেন। মেয়ের বাবা ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাকে ডেকে নিলে আমি উপস্থিত হয়ে বরের পরিচয় জানতে চাই। এ সময় বর সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রথমে নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী হিসেবে ঢাকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক পরিচয় দেন। এতে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে তার কাছ থেকে বিভিন্ন দপ্তরের ভুয়া পরিচয়ের কাগজপত্র উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করে।” ডিমলা থানার এসআই সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা তার পূর্বের বিয়ে করা ছয় স্ত্রীর ঠিকানা নিয়ে যোগাযোগ করছি। তারা প্রত্যেকেই প্রতারিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার নাম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ হলেও কোথাও সাগর নামে পরিচয় দিয়েছেন। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ‌এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জাতীয় পরিচয়পত্র সবই ভুয়া মনে হওয়ায় গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা অপর দুই সঙ্গী প্রাইভেটকারচালক রংপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আজগর আলীর ছেলে সুমন আলী (৩২) ও ঈশ্বরদী শহরের আশরাফ আলীর ছেলে দেলোওয়ার হোসেনকে (৪৫) আটক করা হয়েছে। প্রাইভেটকারচালক ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে এবং ঈশ্বরদী দেলোয়ার হোসেন সিরাজুল ইসলাম সিরাজের চাকরিস্থলের পরিচয়ে তার (সিরাজ) সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, আটক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের উপযুক্ত সাজা দাবি করেছেন নীলফামারী সদর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী। তিনি বলেন, “নীলফামারী শহরের এক কলেজ ছাত্রী তার বিয়ে প্রতারণায় ক্ষতিগ্রস্ত হযে সহযোগিতার জন্য আমার কাছে এসেছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি তার (সিরাজ) মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে কথা বলতে চাইলে আমাকে হত্যার হুমকি দেয় সে। এ ঘটনায় নীলফামারী থানায় একটি জিডি করেছি আমি।”






মন্তব্য চালু নেই