মেইন ম্যেনু

সবখানে কঠোর নিরাপত্তা, ব্যতিক্রম জামাতি ঘরনার ইবনে সিনা ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে

সবখানে কঠোর নিরাপত্তা, ব্যতিক্রম শুধু জামাতি ঘরনার ইবনে সিনা ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। বিষয়টা শুধু অবাকই করেনি বরং সন্দেহও করিয়েছে অনেককে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী মনোভাবে সারা দেশের মানুষ যখন প্রতিরোধী ঠিক তখন এরূপ অনেককেই বিষ্মিত করেছে। কারণ আর কিছুই নয়, নজিরবিহীন নাশকতাকারী দল হিসেবে অভিযোগের তীর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনে বাতিল হওয়া ও যুদ্ধাপরাধী এবং ধর্মভিত্তিক জামায়াত ইসলামীর দিকেই। ধর্মান্ধতা, গোড়ামি আর ধর্মকে পুজি করেই যে দলটির পথচলা সেই জামাতি ঘরনার ও তাদের অর্থজোগানদাতা হিসেবে বিবেচিত অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল।

ঢাকায় অবস্থিত সরকারি এবং নামি বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও ইবনে সিনা ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি।

বুধ ও বৃহষ্পতিবার (২০ ও ২১ জুলাই ২০১৬) দুদিন হাসপাতালগুলোতে সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

দেশের সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে আসেন।

অপরদিকে, বেসরকারি স্কয়ার,ল্যাবএইড,পপুলার হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু ইবনে সিনা, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল চলছে খুবই ঢিলেঢালা পদ্ধতিতে।

বুধবার ধানমণ্ডিতে অবস্থিত ইবনে সিনা মেডিক্যাল হাসপাতাল, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ইবনে সিনা ফার্মেসিতে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে দেখা যায়, সেখানে নেই কোনও আর্চওয়ে, নেই চেকিংয়ের ব্যবস্থা। একেবারেই প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুজন নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনি। যদিও তারা কেবল গাড়ি ঢোকার এবং বের হওয়ার জায়গা করে দিতেই ব্যস্ত ছিলেন; সেবা নিতে আসা কাউকে কোনও ধরনের নিরাপত্তার মুখে পড়তে হচ্ছে না। এসব নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে রোগী এবং স্বজনদের মাঝে। এখানে সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীরা বলছেন, এভাবে প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনও ধরনের নিরাপত্তা না থাকাটা আতঙ্কের। তারপরও আমাদের আসতে হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেছেন, এখানে দু’মিনিটে হামলা করে তিন মিনিটে বেরিয়ে যাওয়া কোনও ব্যাপারই না। ইবনে সিনা হাসপাতালের একজন কর্মীও জানালেন, তিনিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বামীকে নিয়ে ডায়ালাইসিসের জন্য শংকর থেকে আসা এক নারী বলেন, নিজের জন্য নয়, সন্তানদের জন্য আতঙ্কিত হই। ইচ্ছে করলেই এখানে একটি আর্চওয়েসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু আপনি দেখেন, কোনও চেকিং নেই; যার যখন ইচ্ছা আসছেন আর বেরুচ্ছেন। সবাই সবার দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছেন। একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গেলে অন্তত শান্তিতে বসতে পারতাম।

তিনি বলেন, চেকিংয়ে অনেকেই হয়ত বিরক্ত হতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মানুষ মেনেও নিতেন। কারণ, নিজের ভালোটা কে না বোঝেন।

অপরদিকে, ইবনে সিনা হাসপাতালের প্রধান ভবনে কেবলমাত্র মূল ফটকে রয়েছেন একজন নিরাপত্তা প্রহরী। তিনিও গাড়ি ম্যানেজমেন্টে ব্যস্ত। মূল ফটক থেকে ঢুকে কোনও রকমের বাধা ছাড়াই প্রবেশ করছেন সবাই।

তবে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করতেই ইবনে সিনা হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনীয় যাবতীয় নিরাপত্তা রয়েছে হাসপাতালে।

প্রয়োজনীয় যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কী কী নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা রয়েছে হাসপাতালের বিশেষ জায়গাগুলাতে।

কিন্তু কাউকে চেক করা হচ্ছে না- প্রশ্ন করলে তিনি কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, চেক হচ্ছে। ‘আমি তো ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছি। আমাকে তো কেউ চেক করলেন না’ এই কথা বলা হলে তিনি এবার বলেন, আপনাকে সন্দেহজনক মনে হয়নি। তাই চেক করা হয়নি। কিন্তু আমি গত দুঘণ্টা ধরে হাসপাতালে বসে আছি, কাউকেই চেক করতে দেখিনি বললে তিনি বলেন, হাসপাতালে চেক হলে রোগী আসাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সেটা করতে পারি না।

এদিকে, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পাশেই অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে গিয়েও দেখা গেছে, একই অবস্থা। ফটকের পাশেই রয়েছে সারি বেঁধে ছোট ছোট দোকান।

হাসপাতালটির পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ভবনের দুটিতে নিরাপত্তা প্রহরী থাকলেও বাকিগুলোতে প্রবেশপথ একেবারেই উন্মুক্ত। প্রায় ১৬ বছর ধরে নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন এমন একজন জানালেন, গুলশান হামলার পর এখানে পুলিশ আসবে শুনে আসছি, কিন্তু কেউ আসেননি।

অপরদিকে, স্কয়ার হাসপাতালে বৃহষ্পতিবার ঘুরে দেখা গেল, সেখানে গুলশান হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে চারস্তরের। হাসপাতালের বাইরে, মূল ফটকে রয়েছে স্থায়ী আর্চওয়ে। এরপর নারী পুরুষের জন্য রয়েছে দুটি লাইন, যেখানে সবার সব ধরনের ব্যাগ চেক করা হচ্ছে। এই স্তর পার হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় যাওয়ার পথে চলন্ত সিড়ি এবং লিফটে ওঠার পথেও রয়েছে বিশেষ চেকিংয়ের ব্যবস্থা।

স্কয়ার হাসপাতালের চিফ সিকিউরিটি অফিসার আশফাকুর রহমান বলেন, নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে স্কয়ার গ্রুপের নিজস্ব যে সিকিউরিটির ফোর্স রয়েছে, তারাও কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখনকার যে সিকিউরিটি দেখা যাচ্ছে, সেটাই হলো একটা হাসপাতালের বেসিক সিকিউরিটি, অ্যাকুরেট (যথার্থ) সিকিউরিটি।

তিনি বলেন, এটা একটি হাসপাতাল। ওপরের তলায় অনেক রোগী ভর্তি আছেন। আগে অনেক আত্মীয় বন্ধুরা দেখতে এলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হতো বিনা চেকিংয়ে। কিন্তু এখন সেটা করা হচ্ছে না গুলশান হামলার পর। আমরা ভিজিটরদের লিমিটেড করে দিয়েছি।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে আশফাকুর রহমান বলেন, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিজের আইডি কার্ড শো করতে বাধ্য। না হলে নিরাপত্তারক্ষীরা অফিশিয়ালি চার্জের মুখে পড়বেন।

তিনি বলেন, তবে মানুষ এখন অনেক বেশি সহযোগিতা করছেন, নিজেরাই চেক করার জন্য বলছেন। আগে যেটা অনেকে বিরক্ত হতেন এখন সেটা অনেক কমে গেছে। অনেকেই বলছেন, চেক করার জন্য ধন্যবাদ।

আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইড হাসপাতালে গিয়েও দেখা গেছে, সেখানে কাজ করছে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী।

ল্যাবএইড গ্রুপের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (করপোরেট কমিউনিকেশন) সাইফুর রহমান বলেন, এই হাসপাতালে বাইরের খাবার, পোশাক এবং ওষুধ অ্যালাউড না। যারা বিশেষ দরকারে কোনও ব্যাগ নিয়ে আসেন, তাদের চেক করা হচ্ছে বিশেষভাবে। গুলশান হামলার আগে সাতজনের একটি বিশেষ টিম ছিল নিরাপত্তার কাজে। কিন্তু এখন সেই টিমকে সম্প্রসারিত করে ১৬ জনকে নিয়ে একটি গ্রুপ করা হয়েছে,যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঈগল গ্রুপ’।

তিনি বলেন, এরা সারাক্ষণ বিশেষভাবে নজরদারি করছেন হাসপাতালে। প্রতিদিন তাদের নানান কৌশল শেখানো হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এখানে আর্চওয়ে বসবে। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কোনও ঘাটতি রাখছেন না বলে জানালেন সাইফুর রহমান।

অপরদিকে, আনসার বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি এনেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সহকারী পরিচালক ডা. খাজা আবদুল গফুর এমনটাই জানালেন।

তিনি বলেন,এত বড় হাসপাতালে ধরে ধরে আমরা চেক করতে পারছি না। তবে যেসব জায়গাগুলোয় আগে নিরাপত্তা কম ছিল, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, নিরাপত্তা রক্ষীদের টহল বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে আমরা যারা রয়েছি তারা খুব সতর্ক রয়েছি, যারা প্রশাসনে রয়েছি তারা ঘন ঘন দীর্ঘমেয়াদীভাবে পরিদর্শন করছি নিয়মিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রও জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি এবং নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

এ হাসপাতালের চিকিৎসক ভাসক্যুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেল বলেন, আমরা ভীত নই। হাসপাতালের ভেতরে আমরা মোটেও নিরাপত্তাহীনতায় নেই। এগুলো আছে, থাকবে। আমরা এগুলোকে আমলে নিতে চাইছি না।আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই