মেইন ম্যেনু

সবচেয়ে সফল পাঁচ অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক

ক্রিকেট মাঠে দলনেতা হিসেবে একজন অধিনায়ক একটি দলকে পরিচালনা করেন। দলের জন্য কোনটি ভালো হবে, কোনটি খারাপ হবে সেই বিবেচনার ভারও বর্তায় তার উপর।

ক্ষেত্র বিশেষে দিনশেষে অধিনায়কের একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তই একটি দলকে জেতাতে যথেষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু একটি পরিবার যেমন একজন ব্যাক্তির একার দ্বারা পরিচালনা করা সম্ভবপর হয় না, তেমন ক্রিকেট মাঠের ১১ জনের দলটিকে সামলানোও একজনের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

আর এই প্রয়োজন থেকেই ক্রিকেটে `সহ-অধিনায়ক’ পদের সৃষ্টি। একজন সহ-অধিনায়ক অনেকভাবে অধিনায়কের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেন। এখন পর্যন্ত অনেক বিখ্যাত অধিনায়ক সহ-অধিনায়ক জুটি দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। সাম্প্রতিক সময়ে এর খুব ভালো একটি উদাহরণ হতে পারে ভারতের মাহেন্দ্র সিং ধোনি-বিরাট কোহলি জুটি।

দুইজন চারিত্রিকভাবে অনেকটাই আলাদা হলেও দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, শারিরীক ভাষা- নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। একই সাথে ধোনির ঠাণ্ডা মাথার সব সিদ্ধান্তের সাথে কোহলির স্বভাবসুলভ আগ্রাসী মনোভাব আশ্চর্য টনিক হিসেবে কাজ করছে গত কয়েক বছর ধরে।

তাদেরকে আলাদাভাবে বিবেচনার আরো বড় কারণ তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স। বিশেষ করে তাদের সম্মিলনে এখন সংক্ষিপ্ত পরিসরে দুর্দান্ত একটি দল ভারত।সফল অধিনায়ক সহ-অধিনায়ক জুটির এমন উদাহরণ আছে আরো অনেক। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সফল পাঁচ অধিনায়ক সহ-অধিনায়ক জুটি:

download (4)

১. সৌরভ গাঙ্গুলী- রাহুল দ্রাবিড় (ভারত):
ভারতের ক্রিকেট আকাশে যখন ম্যাচ ফিক্সিং দুর্যোগের ঘনঘটা তখনই নৈতিকভাবে বিভক্ত দলটিকে সামলে জয়ের ধারায় ফেরানোর গুরুদায়িত্ব পড়ে সৌরভ গাঙ্গুলির উপর। ডেপুটি দ্রাবিড়কে নিয়ে দল পুনর্গঠনের অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। যা ভারতীয় ক্রিকেটকে সমূলে বদলে দিয়েছে আজীবনের জন্য। তাদের সময়েই দেশের বাইরে পরপর সিরিজ জেতাসহ দেশের মাটিতে অজেয় শক্তিতে পরিণত হয় ভারত। লংগার ভার্সনে ব্যাটিংয়ে দেশ ও দেশের বাইরে সমানভাবে দুর্দান্ত। দ্রাবিড়ের ব্যাটে চড়েই আসে হেডিংলে আর আ্যাডিলেডের ঐতিহাসিক জয়। ওয়ানডেতে দলের স্বার্থে উইকেট কিপিংয়ের অতিরিক্ত ভারও সামলাতে হত দ্রাবিড়ের। কেননা অধিনায়ক গাঙ্গুলি দলে একজন অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান খেলাতে চাইতেন।গাঙ্গুলির আগ্রাসী মনোভাবের সাথে দ্রাবিড়ের ধৈর্য্য আর পরস্পরের প্রতি আস্থা ও সম্মান ভারত দলকে পৌঁছে দিয়েছিল অনন্য উচ্চতায়। নিঃসন্দেহে এটি অন্যতম সেরা একটি জুটি।

download (3)

২. আ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড) :
২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫-০ তে অ্যাশেজ হারের পর অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের নেতৃত্বে ঘরের মাটিতে সেটি পুনরুদ্ধার করে ইংল্যান্ড। এখানেই শেষ নয় পরের বার ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২৪ বছর পর সফরকারী হিসেবে অ্যাশেজ জেতে ইংল্যান্ড। তার সহকারী কুক যে শুধু অধিনায়কত্বের সঙ্গী ছিলেন তা নয়, বরং দুজন মিলে গড়ে তুলেছিলেন দুর্দান্ত একটি ওপেনিং জুটি। ঈর্ষনীয় ১২৭.৬৬ গড় নিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার নিজের করে নেন কুক। পরস্পরের পরামর্শে মাঠের কার্যকরী সব সিদ্ধান্তের সাথে সাথে জুটি বেধে ওপেনিং এ দুজনের সম্মিলিত ৫০০০ রান কুক ও স্ট্রাউসের রসায়নকে করে তুলেছে আরো সফল ও সুন্দর।

download (2)

৩. মার্ক টেইলর ও স্টিভ ওয়াহ (অস্ট্রেলিয়া) :
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসের এই অন্যতম সেরা দুই অধিনায়ক একসাথে মিলে এমন একটি দল গড়ে তোলেন যা পরবর্তী অনেক বছর অনেকটা একচ্ছত্র আধিপত্য করেছে ক্রিকেট বিশ্বে। মার্ক টেইলরের সাথে তার ডেপুটি স্টিভ ওয়াহ যিনি আবার পরবর্তীতে অধিনায়ক হয়ে এই দলটিকে সর্বকালের অন্যতম সফল একটি দল হিসেবে রুপ দান করেন। অ্যালান বোর্ডারের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের উন্নতির অন্যতম কারিগর এই জুটি সমান তালে পারফর্ম করেছেন মাঠের খেলায়ও।

download (1)

৪. গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিন আফ্রিকা):
রেকর্ড ১০৮ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া প্রোটিয়া অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ তাদের ইতিহাসের সেরা অধিনায়কও বটে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট পুনর্জাগরণের অন্যতম কারিগরও ধরা হয় তাকে। তিনি ডেপুটি হিসেবে পেয়েছিলেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা জ্যাক ক্যালিসকে। যাকে তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বলা যায়। সহ-অধিনায়কত্বের পাশাপাশি প্রোটিয়া ব্যাটিং এর মূল স্তম্ভও ছিলেন ক্যালিস।পরস্পরের প্রতি আস্থার পরিচয় দিয়ে একে অন্যের কাজকে পরিপূর্ণতা দিয়েছেন দুজন। ক্যালিসকে নিয়ে স্মিথের গড়া দলটি পরবর্তীতে অন্যতম সেরা টেস্ট দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

download

৫. জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা ( শ্রীলংকা) :
ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক জুটি একাধারে ছিলেন অকৃত্রিম বন্ধু ও অসাধারণ ক্রিকেটীয় প্রতিভার আশীর্বাদপুষ্ট খেলোয়াড়। লংকান ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে সম্ভবত এই দুজনের সংযোজন ছাড়িয়ে গেছে অন্য যে কারো অবদানকেই। তাদের হাত ধরেই ২০০৭ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে শ্রীলংকা। যদিও অস্ট্রেলিয়া আর ভারতের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হতে হয়েছিল তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েই ঘরে ফেরেন মাহেলা আর সাঙ্গা। দুজনের ঠাণ্ডা মাথার বাহারী সব শট চোখের ক্ষুধা মিটিয়েছে ক্রিকেটমোদী দর্শকদের। তাদের ঝুলিতে আছে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়া পার্টনারশিপও। দুজনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা ৬২৪ রানের জুটি এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ।






মন্তব্য চালু নেই