মেইন ম্যেনু

সবজি বিক্রির টাকায় বিরাট হাসপাতাল গড়েছেন কলকাতার সুভাষিণী মিস্ত্রী

৭৩ বছরের বৃদ্ধা তিনি এখন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে হারিয়েছেন স্বামীকে। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর আঘাতই তাঁকে এক দৃঢ় সংকল্প নেওয়ার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, আর কাউকে তাঁর স্বামীর মতো বিনা চিকিৎসায় তিনি মরতে দেবেন না। বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিজ্ঞা তিনি রক্ষা করেছেন। গড়ে তুলেছেন এক বিরাট হাসপাতাল, যেখানে নামমাত্র মূল্যে দরিদ্রদের চিকিৎসা করা হয়। এই বিজয়িনীর নাম সুভাষিণী মিস্ত্রি।

সুভাষিণী দেবীর লড়াইটা সহজ ছিল না। পশ্চিমবঙ্গের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের কন্যা সুভাষিণীর বিয়ে হয় এক ঠিকে শ্রমিকের সঙ্গে। সুভাষিণীর বয়স তখন সবে ১২। স্বামী কোনওদিনই শারীরিকভাবে তেমন সুস্থ ছিলেন না। বছর এগারো সংসার করার পর তাঁর স্বামী মারা যান। মূলত অর্থাভাবের কারণেই ঠিকমতো স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারেননি সুভাষিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অথই জলে পড়েন তিনি।

ছোটবেলায় অর্থাভাবে লেখাপড়া শেখা হয়নি। জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে সবজির দোকান খোলেন সুভাষিণী। পাশাপাশি যখন যে কাজ পেয়েছেন, তাই করেছেন— চায়ের দোকানে খেটেছেন, বাড়ি বাড়ি কাজ করেছেন, করেছেন পুকুর পরিষ্কারের কাজও। সন্তানদের পড়ানোর মতো অর্থ ছিল না বলে তাদের পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এক অনাথ আশ্রমে। সেখানেই বড় হতে থাকে তারা।

কিন্তু নিজের প্রতিজ্ঞা ভোলেননি সুভাষিণী দেবী। যত সামান্যই তাঁর রোজগার হোক না কেন, আয়ের একটি অংশ তিনি তুলে রাখতেন নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য। তাঁর স্বপ্নের প্রথম ধাপটি পূরণ হয় যেদিন তাঁর বড় ছেলে অজয় ডাক্তারি পাশ করেন। সুভাষিণী দেবীর উদ্যোগে এবং অজয়বাবুর তত্ত্বাবধানে ১৯৯৩ সালে ঠাকুরপুকুর এলাকায় একটি জমি কিনে একটি অস্থায়ী ছাউনি গড়ে শুরু হয় রোগীদের চিকিৎসা। ১৯৯৫ সালে একটি পুরোদস্তুর হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ১৯৯৬ সালে সেই দোতলা হাসপাতালের দরজা খুলে দেওয়ার হয় সাধারণ মানুষের জন্য।

আজ হিউম্যানিটি হসপিটাল নামে পরিচিত সেই হাসপাতালে রয়েছে আধুনিক চিকিৎসার সবরকম বন্দোবস্ত। চিকিৎসক হিসেবে অজয়বাবু তো রয়েছেনই, পাশাপাশি রয়েছেন শহরের অন্য নামজাদা ডাক্তাররাও। গরীব মানুষ এখানে যে কোনও বড় অপারেশন করাতে পারেন মাত্র ৫ হাজার টাকায়। আর ছোটখাটো চিকিৎসা সারা হয় মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে।

নিজের জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন সুভাষিণী দেবী। অনাহারে-অর্ধাহারে কেটে গিয়েছে বহু দিন। খাওয়ার টাকা বাঁচিয়ে তুলে রেখেছেন হাসপাতালের জন্য। তাঁর সেই কষ্ট আজ সার্থক হয়েছে। দরিদ্র মানুষের প্রতি চিকিৎসা-পরিষেবা বাড়িয়ে দেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা তিনি করেছিলেন, তা আজ সফল হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই