মেইন ম্যেনু

সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল ছোট্ট ক্যাসপার

চলে গেল ছোট্ট ক্যাসপার। হলো না আর বাবার হাত ধরে পাহাড়ে ওঠা, হলো না অভিযানে বেরিয়ে অজানা প্লাটফর্মে শুয়ে থাকা বা বন বাঁদাড়ে ঘুরে বেড়ানো। দেশব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব শুভাকাঙ্খীর প্রার্থনাকে পাত্তা না দিয়ে বিকেলের আলোয় তিনি বেরিয়ে পড়লেন একা অভিযানে। সঙ্গী হননি কারো, সঙ্গে নেননি কাউকে।

বিয়ার গ্রেইলের মতোও হওয়ার ইচ্ছা ছিল ক্যাসপারের। ওই শো’টার সবগুলো পর্ব ক্যাসপারের মুখস্ত। তাই সে নিজের কাজ এখন থেকেই নিজে করে। ভাত খাওয়া, খেলা শেষে নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, টয়লেট শেষে নিজে নিজেই পানি ঢেলে দেওয়া। বাজে গন্ধ ক্যাসপার একফোঁটাও পছন্দ করে না।

তখনই বাঁধলো সমস্যাটা। ক্যাসপার দেখেছে তার টয়লেটের সাথে ঝরঝর করে রক্ত যাচ্ছে। বোঝেনি, কী সর্বনাশটা চলছে নিজের ভেতর। ব্যথা পায়, কাঁদে, কাউকে বলেনা। চার বছরের বাচ্চা, কীভাবে বোঝাবে? একদিন মায়ের সন্দেহ হলো। ছেলে টয়লেটে কাঁদছে, জোর করে ভেতরে গেলেন। রক্তের পরিমান দেখে স্তব্ধ হয়ে পড়লেন।

এতো রক্ত! এরপরে চট্টগ্রামের রয়েল ক্লিনিক নেওয়া হলো। তারপরে অবনতি হলে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে পিজিতে নেওয়া হয়। এখানেই ক্যাসপারের রক্তক্ষরণের কারণ শনাক্ত ও তা অপসারণ করা সম্ভব হয়। ২৭ আগস্ট ক্যাসপারের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। গত জুম্মার নামাজের পরে সারাদেশে ক্যাসপারের জন্য দোয়া করা হয়।সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল ক্যাসপার …

পরের দিন ডাক্তার ইমরুল হাসান ওয়ার্সি জানান, ‘হঠাৎ করেই ক্যাসপারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইমার্জেন্সি অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয় ওর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড। ব্লিডিং এর কারণ এবং অবস্থান সনাক্ত করা এবং ব্লিডিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এ অপারেশন শুরু করা হয়।

‘মেকলস ডিভার্টিকুলাম’ শনাক্ত হয় একটু ব্যতিক্রমী অবস্থায় এবং অবস্থানে। আর ওটাই ছিলো ওর ব্লিডিং এর কারণ। রোগাক্রান্ত অংশটি কেটে বাদ দেয়া হয় ওর ইনটেস্টাইন থেকে। ২৪ ঘন্টা পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকবে ক্যাসপার।’

শনিবার ডাক্তার ইমরুল হাসান ওয়ার্সি জানান, ইউরিন আউটপুট খুবই কম। ব্লাড প্রেসার খুবই কম। হৃদ স্পন্দন অনেক বেশী। সব মিলিয়ে ওর অবস্থা খুব একটা ভালো না। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল ক্যাসপার …

রোববার সকালে তিনি ক্যাসপারের আপডেট জানান, ‘ক্যাসপারের ইউরিন আউটপুট কিছুটা বেড়েছে। ব্লাড প্রেসার এখনো আনস্টেবল। সার্বিক ভাবে ওর অবস্থা গতকালের মতোই। কিছু কিছু প্যারামিটারে সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো ঝুঁকির মধ্যেই আছে। যে কোনও সময় ওর অবস্থা যেকোন দিকে মোড় নিতে পারে। ক্যাসপার সংগ্রাম করছে। আমরাও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।’

কিন্তু সব চেষ্টা বিফল করে দিয়ে বিকাল ৪ টার দিকে ক্যাসপার না ফেরার দেশে চলে যায়।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই