মেইন ম্যেনু

সবার মাঝে আপনাকে কেন মশায় কামড়ায়

প্রায় পুরো বছরজুড়ে ঘরে মশার উৎপাত থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে মশার আধিক্য বেড়ে যায় অনেক বেশি। বন-জঙ্গল, আবদ্ধ পানি বা ময়লা স্তুপে এসময় ব্যাপকহারে মশার বংশবিস্তার ঘটে। মশা থেকে রেহাই পেতে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন। মশা বাহিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাবধানে থাকেন, যাতে মশা না কামড়ায়। সবার সঙ্গে গল্প করছেন, কাউকে না কামড়ালেও এরই মাঝে মশা আপনাকেই কামড় দিয়ে চলেছে। অন্যদের কি মশা কামড়ায় না, নাকি আমাদের মনের ভুল? আসলে সবাইকে মশা একভাবে আক্রমণ করে না। কিছু কিছু মানুষকে মশা খুব বেশিই উৎপাত করে। মশারা কামড়ে বেশি সুখ পায়। তার কারণ হলো এসব মানুষের ডিএনএ।

গবেষকেরা দেখেন, কিছু মানুষের দেহের গন্ধ মশাকে আকৃষ্ট করে সুগন্ধি পনিরের মতো। ফলে ডিএনএ-র জন্যই মশাদের কাছে আপনি উৎকৃষ্ট একটি খাবার। আবার ডিএনএ যেমনই হোক গর্ভাবস্থায় মশা স্বাভাবিকের চাইতে একটু বেশি কামড়ায়।

লন্ডনের একদল গবেষক সম্প্রতি মশাদের এই আকর্ষণের পেছনে জেনেটিক কারণ উদ্ঘাটন করেছেন। ১৮ জোড়া আইডেন্টিকাল এবং ১৯ জোড়া ফ্র্যাটারনাল যমজ নারীকে এই গবেষণায় নেয়া হয়। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, একজন মানুষকে পোকা কতটা উত্যক্ত করবে তার ৬৭ শতাংশ নির্ভর করে তার জিনের ওপর।

প্রতিটি মানুষ ১০০ ট্রিলিয়ন অণুজীবে আবৃত থাকে। এর পরিমাণ আমাদের মোট ডিএনএ-র চেয়ে ১০ গুন বেশি। আমাদের প্রত্যেকেরই শরীরের এই জীবাণুর সমষ্টি অর্থাৎ ‘মাইক্রোবায়োম’ আলাদা। মানুষের ডিএনএ আকৃষ্ট করে বিশেষ কিছু মাইক্রোব্যাক্টেরিয়াকে। এর কারণে একেক মানুষের শরীরের গন্ধ একেক রকমের হয়। এসব ব্যাকটেরিয়া আবার মশাকে আকৃষ্ট করে আমাদের শরীর পর্যন্ত।

একেক ধরণের মশা শরীরের একেক অংশের গন্ধ পছন্দ করে। অ্যাডিস গ্যাম্বি নামের ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশাটি হাত ও পায়ে কামড়াতে পছন্দ করে। কেউ কেউ আবার সোজা বগল এবং কুঁচকির ত্বক আক্রমণ করে। মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে আপনি কিছু ব্যবস্থা নিতে পারেন। যেমন-

– লেমন ইউক্যালিপটাস অয়েল মেখে এদেরকে দূরে রাখতে পারেন

– ত্বক যতটা সম্ভব শুষ্ক রাখুন। ঘর্মাক্ত ত্বক মশাকে আকৃষ্ট করে।

– ৫ ভাগ পানিতে ১ ভাগ রসুনের রস মিশিয়ে মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে শরীরে স্প্রে করুন। এতে করে যে কোন ধরণের রক্ত চোষারা আপনার ধারে কাছেও আসবেনা।

– সমপরিমাণ নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। দেখবেন মশা আপনার ধারে কাছে ভিড়বে না এবং সেই সাথে ত্বকের অ্যালার্জি, ইনফেকশন জনিত নানা সমস্যাও দূর হবে।

– একটি ৫০ গ্রামের কর্পূরের ট্যাবলেট একটি ছোট বাটিতে রেখে বাটিটি পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। এরপর এটি ঘরের কোণে রেখে দিন। তাৎক্ষণিকভাবেই মশা গায়েব হয়ে যাবে। দুই দিন পর পানি পরিবর্তন করে নিন।






মন্তব্য চালু নেই