মেইন ম্যেনু

সব্যসাচী’র স্বপ্ন সত্যি হোক

সাফাত জামিল শুভ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : ইতিহাস লিখে যান বয়স্করা, কিন্তু তা তৈরি করেন তরুণরা। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তির আন্দোলনে সর্বপ্রথম তরুণরাই প্রত্যক্ষ সমরে বুক পেতে দাঁড়িয়েছে। কামানের সামনে নির্দ্বিধায় দাঁড়িয়ে বলেছে ‘স্বাধীনতা চাই, মুক্তি চাই’। অধিকার আদায়ে সদা সর্বদা দৃঢ় মনোভাব পোষণ করেছে এই তরুণ সমাজ। ভারতীয় উপমহাদেশ যখন ব্রিটিশদের অধীনে থেকে নিষ্পেষিত হচ্ছিল সেসময় থেকে আরম্ভ করে বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া, স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ এসব আন্দোলন, সংগ্রামে তরুন সমাজের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। ওরাই যে দেশের প্রাণ ভোমরা। প্রতিটি হাত একেকটি দেশ গড়ার হাতিয়ার।

তরুণদের চোখে থাকে স্বপ্ন। বুকে থাকে আশা। ওরা স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্ন দেখায়। যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সমাজকে পরিবর্তন করে। বিশ্ব দরবারে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে।যুগে যুগে লেখক-কবিরা তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন। তারুণ্য মানে নব জোয়ারে বিপুল শক্তি, তরুণ মানে নব উদ্যম। সব বাধা ক্লেশ দূর করতে যুবশক্তির বিকল্প কিছুই হতে পারে না। বুক ভরা একরাশ সাহস নিয়ে অধিকার চাইতে যে একবারও ভাবে না সে-ই তো তরুণ।

তারুণ্যের শক্তিকে সাংগঠনিক রূপ দিতে ভিন্ন ভিন্ন মূলমন্ত্র নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে কাজ করে যাচ্ছে অসংখ্য সংগঠন। কিছু করার ইচ্ছে, কিছু বদলানোর স্বপ্ন অপরিসীম কল্পনা। স্বপ্ন একটি সুন্দর বাংলাদেশের, ইচ্ছে একটি বৈষম্যহীন অভাবহীন জাতির, লক্ষ্য স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার। আশাজাগানো তেমন একটি সংগঠন ‘সব্যসাচী’।

গত বছরের ১৪ এপ্রিল দেশে উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করে
সব্যসাচী। বিনোদন, সেবা, প্রতিবাদ এই তিনটি মূলমন্ত্র নিয়ে দেশব্যাপী কাজ করছে সংগঠনটি। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংঠনের নানারকম কাজে অংশগ্রহণ করছে।

সংগঠনটি সম্পূর্ণভাবে অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পরিচালিত এ সংগঠনটির সামগ্রিক লক্ষ্য -বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থান কে উন্নত করা। ক্রমবর্ধমান কিছু সামাজিক সমস্যাকে প্রতিহত করে সামাজিক সুস্থিরতা ফিরিয়ে আনা। ইভটিজিং, নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, প্রয়োজনে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা। তাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচী পালন।
ডকুমেন্টারী ফিল্ম চিত্রায়ন, ফিল্ম ফেস্টিভাল,সুস্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক ক্যাম্পেইন,লোকসঙ্গীত মেলা, আলপনা উৎসব ইত্যাদি।

সব্যসাচী’র মত সংগঠনগুলো সমগ্র বাংলাদেশেই ছড়িয়ে পড়া উচিত, কেননা এই বিশাল জনসংখ্যার চাপ কখনো সরকারের একার পক্ষে সামলানো সম্ভব না, এ ধরণের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে যদি আমাদের দেশের তরুণরা দেশ গঠনে এগিয়ে আসে, তবেই সম্ভব একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সব্যসাচীর স্বপ্ন ছড়িয়ে যাক গোটা বাংলাদেশে।






মন্তব্য চালু নেই