মেইন ম্যেনু

সব সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে একজন হত্যার বিচার হয়েছে। শিগগিরই অন্যদের হত্যারও বিচার করা হবে।

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহায়তা ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় এ বছর প্রথমবারের মতো ১৯৬ জন দুস্থ, অসুস্থ, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়। ২০১২ সালে সাংবাদিক সহায়তা অনুদান ও ভাতা নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও গণমাধ্যম পরিবারের একজন। জাতির পিতা কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে এ সম্পর্কে অনেক কথাই লিখেছেন। সেদিক থেকে আমিও গণমাধ্যম পরিবারেরই একজন সদস্য।

শেখ হাসিনা বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ স্থাপনে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ কাজ করেছে। আপনারা (সাংবাদিক) কেউ আমাকে কোনো পরামর্শ দেননি, নিজ উদ্যোগে করেছি। এ বিষয়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম জাতির পিতার কাছ থেকে। কেননা জাতির পিতা সংবাদপত্রে কাজ করতেন।

তিনি বলেন, দেশে কোন প্রকার জঙ্গিবাদ থাকবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলতেই থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই বিচার করেছে। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী কিনা- প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনলাইন গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর নীতিমালা করতে হবে। সেখানে কী থাকবে, আর থাকবে না সেটাও নীতিমালায় আসবে আশা করি। খুব দ্রুত এই নীতিমালা আসবে। এটা খুব দরকার।

বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সরাসরি সম্প্রচার মানুষের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দয়া করে এটা করবেন না। যখন একটা ঘটনা ঘটে, তখন আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নিতে যায়। এটা যদি আপনারf দেখান কোথায় কে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকলো, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তাহলে এটা তো সন্ত্রাসীরাও দেখে ফেলে। তারাও তো এটা দেখে এলার্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, আপনারা লাশের বিভৎস ছবি দেখান। এগুলো বিদেশি কোনও মিডিয়াতে কি দেখায়? বিদেশেও তো অনেক ঘটনা ঘটে। এমন ছবি শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাহলে আপনারা কেন দেখান? আন্তর্জাতিক নীতিমালা আপনাদেরও মেনে চলতে হবে।

এ সময় সমন্বিত নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে তথ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে যেসব গণমাধ্যম সাংবাদিকদের অষ্টম ওয়েজবোর্ড দেয় না কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেন সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখতে অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা তাদের আবাসনের লক্ষ্যে জমির ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা জায়গা দেখে থাকলে জানান, আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো। যদি দেওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা করে দেব।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কে এম রহমত উল্লাহ, তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই