মেইন ম্যেনু

সমঝোতা ও প্যানেল বাছাই চলছে ছাত্রলীগে

২৫-২৬ জুলাই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পর্দা উঠবে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় কাউন্সিলের।

নানা কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রথম মেয়াদে আলোচিত-সমালোচিত ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ছাত্রসংগঠনটি। তাই কাউন্সিল ঘোষণা করার পর নেতাকর্মীদের মধ্য ব্যাপক-উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি বিরাজ করছে উৎকণ্ঠাও। গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, পিয়ারু, মিলন চত্বর ও হাকিম চত্বরে চলছে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা।

এদিকে পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে। ছাত্রলীগের দফতর সেলের তথ্যমতে, ২৫৬ জন প্রার্থী কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে অনেকেই শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে ছাত্রলীগের দফতর শেল জানিয়েছে।

ছাত্রলীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের বহুল আলোচিত দুই সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কাউন্সিলের আগেই সমঝোতার শেষ চেষ্টা চলছে। সমঝোতা শেষ পর্যন্ত না হলে ভোটাভুটির দিকেই যাবে ছাত্রলীগের আলোচিত এ কাউন্সিল।

ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ। সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে আছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা, কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক ইমতিয়াজ বাপ্পি।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতেই ছাত্রলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেটের নেতারা প্যানেল চূড়ান্ত করতে বৈঠক করেছেন। উল্লেখিত তিন নেতার মধ্য আজিজুল হক রানা ও জাকির হোসেনের মধ্য যেকোনো একজনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত করা হতে পারে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না আসায় জাকির হোসেনের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি। আজিজুল হক রানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনের অনুসারীরাও তাদের প্যানেল চূড়ান্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে নানা কারণে আলোচিত ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাতের বয়সের জটিলতায় বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তিনি প্যানেলে আসবেন বলেই আশা করছেন তার সমর্থকরা।

এই প্যানেলে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশ, মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিসুজ্জামান রানা ও ঢাবি শাখার যুগ্ম-সম্পাদক এস এইচ এম শাহ আলম সাদ্দাম ও বিপুল।

এসব বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কাউন্সিল উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্য উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমেই নেতা নির্বাচিত হবেন। আমরা কোনো সিন্ডিকেটে বিশ্বাস করি না। ছাত্রলীগের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ‘ছাত্রলীগে কোনো ব্যক্তির সিন্ডিকেট নেই। ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিন্ডিকেট। কাউন্সিলরা যাকে নেতা বানাবেন তিনিই হবেন শেখ হাসিনার ছাত্রলীগের কাণ্ডারী।’






মন্তব্য চালু নেই