মেইন ম্যেনু

সময়ের অনেক আগেই ছাড়ছে লঞ্চ

মাত্র একদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ যত কাছাকাছি ঘরমুখো মানুষের ভিড় তত বেশি।

তার ওপর বেসরকারি পর্যায়ে শেষ কর্মদিন আজ। আর এজন্য দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের পছন্দের বাহন লঞ্চগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ভিড় সামলাতে গিয়ে অনেক লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সদরঘাট টার্মিনাল ত্যাগ করছে। ফলে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে লঞ্চঘাটে এসেও লঞ্চ মিস করছে।

রোববার সদরঘাট ঘুরে ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন সূত্রে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর, মোরেলগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, ভোলা ও বারিশালসহ বিভিন্ন রুটে ৪৩টি লঞ্চ সদরঘাট ত্যাগ করেছে। এর মধ্যে অনেক লঞ্চ নির্ধারিত সময়ে অনেক আগেই লঞ্চঘাট ছেড়ে গেছে। সকালে বরিশালের উদ্দেশে দ্বীপরাজ, পারাবাত-২ ও স্পেশাল সার্ভিস ফারহান-৮ সদরঘাট ত্যাগ (যা সাধারণত বিকেলে ছাড়ে) করেছে ।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলার উদ্দেশে ৮ থেকে ১০টি লঞ্চ সকাল থেকে ছেড়ে গেছে। যদিও ওই সব লঞ্চগুলোর বিকেল বা সন্ধ্যায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রী অনেক বেশি হওয়ায় ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।

দ্বীপরাজের এক কেবিন বুকিং দেওয়া যাত্রী মইনুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক কষ্টে দ্বীপরাজ লঞ্চে একটি কেবিন বুকিং দিয়েছিলাম। কিন্তু মিস করলাম। অফিসের কাজ শেষে দ্রুতই এসেছিলাম। কিন্তু ঘাটে আসার অনেক আগেই লঞ্চটি ছেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা কোনো কথা হলো বিকেলের লঞ্চ সকালে ছেড়ে গেল। যদিও আমাকে আগেই বলা হয়েছিল তাড়াতাড়ি লঞ্চঘাটে আসতে, কিন্তু এত আগে ছাড়বে বুঝতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ভোগান্তিতেই পড়তে হলো।’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিটিএর যুগ্ম পরিচালক (ট্রাফিক) জয়নাল আবেদিন বলেন, নিয়মিত ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চের পাশাপাশি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি লঞ্চ স্পেশাল সার্ভিস বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। যাত্রী ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে স্পেশাল সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণত ঈদের সময়ে লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত শিডিউল ঠিক থাকে না। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে লঞ্চগুলো আগে-ভাগে ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য করার কিছু নেই। আমরা দেখছি মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়ছে কি না। লঞ্চ ছাড়ার সময় যাত্রীদের নিজের উদ্যোগে জেনে নিতে হবে। এ ছাড়া সব লঞ্চের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। সকালে প্রচণ্ড ভিড় থাকলেও এখন যাত্রী নেই। বিকেলে আবার অনেক ভিড় হবে।

বিআইডব্লিইটিএ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চগুলো সাধারণত সকাল ৬ টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সদরঘাটে ১৩টি পন্টুন দিয়ে যাত্রী লঞ্চে উঠানামা করে। এর সঙ্গে আরো দুইটি পন্টুন যোগ করা হয়েছে। আসন ব্যবস্থাপনা অনুয়ায়ী ছোট-বড় লঞ্চসমূহে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

বড় আকারের লঞ্চগুলোতে ডুপ্লেক্স ও ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা, দুই বেড সুবিধার কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, এক বেডের সুবিধায় সিঙ্গেল কেবিন ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সোফা-কাম-বেডের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা এবং ডেকের (লঞ্চের খোলা স্থান) ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে।

যাত্রীরা জানান, সাধারণত কোনো লঞ্চে কেবিন বুকিং পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য। তাই ঈদের সময়ে যাত্রীদের বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট কাটতে হয়, যা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি।






মন্তব্য চালু নেই