মেইন ম্যেনু

সরকারী বই বিক্রির সময় প্রধান শিক্ষক আটক

ভোলার উপজেলা লালমোহনে সরকারী বই বিক্রি করার সময় প্রধান শিক্ষককে হাতেনাতে ধরেছে ইউপি মেম্বার। ১২জুলাই রোববার সকাল ১০ টার দিকে নাজিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদকে ১২০ কেজি সরকারী বই বিক্রি করে। বিদ্যালয়ের গুদাম থেকে নামিয়ে অটো বাইকে বোঝাই করে বিক্রি করার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। অটো বাইকটি নাজিরপুর বাজার থেকে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এক পর্যায়ে স্থানীয়রা পাঠ্য পুস্তকগুলো আটক করে । তারা স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের মাসুদ মেম্বারকে ঘটনা জানায়।

খবর পেয়ে মাসুদ মেম্বার অপর৭নং ওয়াডের জামাল মেম্বারকে নিয়ে স্কুলে এসে আটক করা বই বোঝাই করা অটো দেখতে পায়। এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ হোসেন এবং থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ পাঠ্য পুস্তক জব্দ করে।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক সকল দপ্তর ম্যানেজ করার জন্য দিনভর চেষ্টা তদ্বির চালায়। এদিকে মাসুদ মেম্বার জানান, অটোতে প্রায় ১২০ কেজি বই ছিল। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বই নতুন। সরকারী বই বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও নাজিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বিদ্যালয়ের বই বিক্রি করে এক হকারের কাছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নাজিরপুর প্রাইমারী স্কুলে বর্তমানে সাড়ে ৩শ’র বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষক হারুন প্রতি বছরই আরো অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে পাঠ্য পুস্তক উত্তোলন করে থাকে। পরে বছরের ৬ মাস গেলেই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠ্য পুস্তকগুলো ‘মন’ হিসেবে কালো বাজারে বিক্রি করে। এ ছাড়া ঔ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অনুকুলে বার্ষিক বরাদ্ধ পাওয়া সরকারী অর্থও বিভিন্ন সময় তসরুপ করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আইয়ুব আলী হাওলাদার জানান, সংবাদ পেয়ে এ,টি,ও হোসেন সাহেবকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পাঠ্য পুস্তক জব্দ করিয়েছি। ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীর তুলনায় পাঠ্য পুস্তক অতিরিক্ত হলে অথবা বিগত বছরের ফেরত লওয়া পুরাতন পাঠ্য পুস্তক উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে।

লালমোহন থানার ওসি আক্তারুজ্জমান ঘটনান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টহল পুলিশ গিয়ে শিক্ষা অফিসের লোকজনকে সহায়তা করে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক হারুনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দিলে তার ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।






মন্তব্য চালু নেই