মেইন ম্যেনু

সরাসরি ফ্লাইটের অভাবে পর্যটন ও বাণিজ্য সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত

অর্থনীতিতে এশিয়ার প্রথম সারির ২০ দেশের ১১টির সঙ্গেই আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগ নেই বাংলাদেশের। এমনকি সরাসরি ফ্লাইট নেই সার্কভুক্ত দুটি দেশের সঙ্গেও। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশের সঙ্গে পর্যটন ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

জানা গেছে, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ নেই বাংলাদেশের। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, কাজাকিস্তান, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং তুর্কিমেনিস্তানের সঙ্গেও সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এবং অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র জাপানের সঙ্গে এক সময় সরাসরি ফ্লাইট থাকলেও অনেক বছর ধরে তা বন্ধ। এখন পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়নি সার্কভুক্ত মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গেও।

এশিয়ার তৃতীয় এবং বিশ্বের ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে দেশটি। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৪৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারের বিভিন্ন পণ্য।

জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাধীনতার সময় থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৪৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারের পণ্য। জাপানে রফতানি হওয়া প্রধান পণ্যগুলো হচ্ছে- চিংড়ি, চামড়া, পাদুকা, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, রাসায়নিক সার এবং হস্তশিল্প। আর দেশটি থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প কাঁচামাল, মেশিনারিজ, নতুন-পুরনো গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

এদিকে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ এসব দেশের সঙ্গে আকাশ পথে সরাসরি যোগাযোগকে অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, সরাসরি ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি লো কস্ট ক্যারিয়ারের সংখ্যা বাড়ানো গেলে দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য তা সহায়ক হবে। দেশের অর্থনীতিও এতে লাভবান হবে।

এ ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) এনামুল বারী বলেন, এভিয়েশন বাণিজ্যের জন্য সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিবেচনায় নতুন কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের। বেশ কিছু নতুন রুটে ফ্লাইট চালুর উদ্দেশ্যে একটি সার্ভে করা হচ্ছে। নভেম্বর নাগাদ গুয়াঞ্জু এবং কলম্বো রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এনামুল বারী জানান, লাভের সম্ভাবনা না থাকলে রুট চালু করা ঠিক হবে না। রুট চালুর পর যাত্রীর অভাবে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সে রুট চালু করা ঠিক নয়। যেমন টোকিও রুট চালু করলে সব মিলে ফ্লাইটপ্রতি খরচ হবে ৫০ লাখ টাকা। আর জাপান থেকে প্রতি ফ্লাইটে সরাসরি ৫০ জন যাত্রী হবে কিনা সন্দেহ আছে। সুতরাং সার্ভে না করে নতুন কোনো রুট চালু করবো না।

তিনি আরো বলেন, একসময় টোকিওতে বিমানের ফ্লাইট ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রুটটি বন্ধ। তবে এটি চালু করতে সরকারের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। অলাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সে পথ থেকে সরে এসেছি।খবর জাগো নিউজের।






মন্তব্য চালু নেই