মেইন ম্যেনু

সশস্ত্র তাণ্ডব চালাচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

সহিংসতা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও জাল ভোটের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর দেশজুড়ে এখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র তাণ্ডব চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এমন মন্তব্য করেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘গুলি, বোমা বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের লাইন ধরে নৌকা প্রতীকে সীল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও জাল ভোটের মধ্য দিয়ে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন দেশজুড়ে চলছে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র তাণ্ডব। সারা দেশেই এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভোটের দিন সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়ে যায় আগের রাতেই। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে সিল মারে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা। নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি এমনকি কোনো কোনো স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও নৌকা প্রতীকে সিল মারতে সহায়তা করে। বিএনপি ও বিরোধী দলের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের কেউ যেন কেন্দ্রের ধারে-কাছে আসতে না পারে, সেজন্য র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি ছিল সদা তৎপর।’

বিএনপির সিনিয়র এ সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে বলেছেন। নির্বাচন কমিশনও প্রধানমন্ত্রীর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আগে ভোট ডাকাতি করতো আওয়ামী সন্ত্রাসী ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা। আর এবার প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হওয়ার নির্দেশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও ভোট ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে কাঁদে। আর ভোট দেয় সন্ত্রাসী ও নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। হায় সেলুকাস, কী চরিত্র এই দেশের বর্তমান শাসকদের!’

তিনি জানান, তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় সহিংস সংঘাত ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধ-শতাধিক লোক।

সারা দেশে খুনের মহোৎসব চলছে এমন অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের পাশাপাশি সারা দেশে গুম, খুন, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খালে-বিলে-ডোবা-নালায় মিলছে মানুষের লাশ। নারী ও শিশুদের নির্যাতনের পর হত্যা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ায় দেশ এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- দেশ গোল্লায় যাক, মানুষের প্রাণ যাক, ক্ষমতার মসনদ রক্ষাই যেন এখন ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে গেছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সেদিন আর খুব দূরে নয়, ভোটারবিহীন সরকার ও তাদের পালিত নির্বাচন কমিশন মিলে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সেক্টরকে ধ্বংস করে দেয়ার জবাব যেদিন এই দেশের জনগণ দিবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে গ্রাম থেকেই প্রতিবাদী মানুষ এখন জেগে উঠছে। শিগগিরই এই দুঃশাসনের অবসান ঘটবে, অবৈধ সরকারের পতন নিশ্চিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজ্জামেল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশিতা, সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন, সহ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক রাহেলা হক রঞ্জু প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই