মেইন ম্যেনু

সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুত ইসি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও তার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা সিইসিকে জানিয়েছেন, যে সকল স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানে সহিংসতার আশংকা রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থা ইসিকে দেওয়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জয় পেতে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ সুযোগে অরাজকতা উসকে দিতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কর্মীরাও। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিরোধীদল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম জানান, ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা নির্বাচনী মাঠ পর্যায়ের বিবরণ দিয়েছে।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে কিছু কিছু স্থানে সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সেখানে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তাই সব বিষয় আমলে নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। তাদের সামনে একটি কমিশন বৈঠক রয়েছে। সেখানেই তারা চূড়ান্ত করবেন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সহিংসতা বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে যে কোনো সহিংসতা মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আশস্থ করেছে কোনো ধরনের সহিংসতা হতে দেবে না। কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ নির্বাচনী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন সিইসি। অরাজক পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

ইসি সূত্র জানান, বৈঠকে কমিশনের প্রস্তাবনায় সাধারণ কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ সদস্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৯ সদস্য মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি করে মোবাইল টিম ও তিনটি ইউপিতে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় র‌্যাবের দুটি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং প্রতিটি উপজেলায় বিজিবির দুটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড মোতায়েনের জন্য বলা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমাদানকালে যাতে অনিয়ন ও সহিংসতা না হয়, তার জন্য একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে ইসি। এ ছাড়া অনলাইনেও প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিষয়ে কারিগরি দিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানান, টেকনিক্যাল বিষয়গুলো ঠিক হয়ে গেলে তৃতীয় ধাপে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ করে দেওয়া যাবে।

এবার ছয় দফায় সারাদেশের ইউপিগুলোর ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আগামী ২২ মার্চ প্রথম দফায় ৭৩৪ ইউপিতে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় ৩১ মার্চ ৬৫১ ইউপিতে, তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল হবে ৭১১টিতে ও চতুর্থ দফায় ৭ মে ৭২৮টি ইউপিতে ভোট হবে। এ ছাড়াও পঞ্চম দফায় ২৮ মে ৭১৪টি এবং ষষ্ঠ দফায় ৪ জুন ৬৬০টি ইউপির ভোটগ্রহণ হবে।






মন্তব্য চালু নেই