মেইন ম্যেনু

সাঁওতালপল্লিতে আগুনের ঘটনায় ২ পুলিশ চিহ্নিত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালপল্লিতে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকা দুই পুলিশ সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে তাদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিচারপতি ওবায়েদুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করেন। আদালত প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করে রেখেছেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
এর আগে বিচারিক তদন্তে সহযোগিতা না করায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বলেও পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি আদালত তার বলেছিলেন, কয়েকজন পুলিশ সদস্যর জন্য পুরো বাহিনী দায়ী হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

এর আগে ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মূখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একজনসহ পুলিশের তিন সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তাদের চেনা যায়নি। ওই সময় তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং ঘটনার যেসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, তা দূর থেকে ধারণ করায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে আগুন দেওয়া লোকদের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দুজন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি লেখা ব্যক্তিকেও দেখা গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালপল্লির চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখল কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সাঁওতালপল্লিতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। এই হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করেন। যার মধ্যে দুটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই