মেইন ম্যেনু

সাংসদদের ব্যঙ্গচিত্র এঁকে ১২ বছরের জেল

ইরানে সংসদ সদস্যদের বানর এবং গরুর মতো করে ব্যঙ্গচিত্র আঁকায় ১২ বছরের জেল হলো আতেনা ফারগাদানি নামে এক কার্টুনিস্টের ।

২৮ বছর বয়সী এই ইরানিয়ান নারী একজন শিল্পী এবং মানবাধিকার কর্মী। দেশটির সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে ব্যঙ্গচিত্র আঁকার কারণে তাকে এই শাস্তি দেয়া হয়। সংসদে গর্ভনিরোধ এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে দেশটির সাংসদদের ভোটের কারণে তাদের সমালোচনা করেন আতেনা। এ সময় সাংসদদের গরু ও বানরের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

তেহরানের কোর্ট তার এই শাস্তি ঘোষণা করে। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড নর্দান ভারজিনিয়ার কার্টুনিস্ট রাইটস নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালের (সিআরএনআই) মতে আতেনাকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে অনেকের মতে তার অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ হতে পারে সাত বছর এবং ছয় মাস। এ নিয়ে তিনি আপিল করতে পারেন বলেও জানা গেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর মতে আতেনার অপরাধ ছিলো তিনি সাংসদদেরকে অপমান করে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থা সিআরএনআই এর সভাপতি জোয়েল পিট বলেন, ‘আমরা আদালতের এমন সিদ্ধান্তে সত্যিই খুব অবাক হয়েছি।’
পুলিতজার পুরস্কার জয়ী জোয়েল আরো বলেন, ‘আমরা একইঙ্গে খুবই হতাশ যে আমরা তাকে সাহায্য করতে পারছি না।’

আতেনা ফারগাদানি চারুকলার একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। অনেকদিন ধরেই অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে তিনি তার রঙ-তুলির ব্যবহার করে আসছিলেন। তাকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছিলো গত বছরের আগস্ট মাসে। কয়েক সপ্তাহ পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু আবারো তিদনি তার উপর অত্যাচার নিয়ে মুখ খুললে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। তেহারানের কুখ্যাত এভিন জেলাখানয় তাকে দ্বিতীয় দফায় রাখা হলে তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন শুরু করেন এবং একটা সময় তার হার্ট অ্যাটাক হয়।

তার গোসল করার স্থানের পাশেই একটি ভিডিও ক্যামেরা লাগানো ছিলো বলেও জানায় আতেনা।

বর্তমানে ওয়াশিংটনে বসবাস করা সিআরএনআই এর এক কার্টুনিস্ট কাওসারকেও ১৫ বছর আগে একই কারণে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
কাওসার বলেন, আতেনাকে যে কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে ইরানে আমরা অনেকেই তা করে থাকি। রাজনীতিবিদদের পশুর মতো করে আঁকা ইরাকে নতুন কিছু নয়। আমিও ২০০০ সালে শক্তিশালী আয়াতুল্লাহ’র নামে একটি কুমির আঁকি। আতেনা যা করেছে তা একদমই সাংসদদের বাস্তব প্রতিকৃতি। আর ইরানিয়ান সংস্কৃতিতে অন্যের অনুকরণকারীদের বানর এবং বোকাদের গরু বলা হয়।’

এবং ইরানের অনেক সাংসদই কিছু না বুঝেই বোকার মত তাদের নেতাদের অনুসরণ করছে বলেও জানান কাওসার।

প্রথমবার আতেনা’র মুক্তির পার সে তার উপর ঘটে যাওয়া হয়রানি নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে। সে তার উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে আওয়াজ তোলে। এবং এজন্য তাকে আবার গ্রেফতার হতে হয়।

আতেনা একজন খুবই সাহসী নারী উল্লেখ করে কাওসার বলেন, তার যথেষ্ট সাহস ছিলো যে সে তার উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে মুখ খুলেছে। এবং এজন্য তাকে কারারক্ষীদের হাতে মারও খেতে হয়েছে।

তবে কাওসার মনে করেন, আতেনার কেসটি হেরে যাওয়ার মূল কারণই হলো তার কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কোনো পরিচয় নেই। তাই সে আদালতে বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগের দুর্বলতার কারণেই আতেনা’র এ অবস্থা বলেও মনে করেন কাওসার।






মন্তব্য চালু নেই