মেইন ম্যেনু

সাইকেলের চেয়ে স্কুটার চালাতে মুশকিল হয়েছিল: অমিতাভ বচ্চন

শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। এখনকার নতুন নতুন হাজারো তারকাদের মেলায় কমে যায় নি তার ঔজ্জ্বল্য। নবাগতদের সাথে সমান তালে অভিনয় করে এখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিগ বি।

সিনেমায় অভিনয় করে কখনও ক্লান্ত হন না তিনি। সে হোক অ্যাকশন, সামাজিক কিংবা থ্রিলার, সব ছবিতেই সব চরিত্রে তিনি অনন্য অসাধারণ। আজ শুক্রবার মুক্তি পেল সুজয় ঘোষের প্রযোজনায় ঋভু দাশগুপ্তের পরিচালনায় বহুল আলোচিত সিনেমা ‘তিন’। এই সিনেমায় প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করলেন ভারতের জনপ্রিয় তিন তারকা মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন, বিদ্যা বালান ও মেধাবী অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি।

ছবিটি মূলত পুরোটা থ্রিলারধর্মী। অমিতাভ বচ্চন তার নাতনির কিডন্যাপ ও হত্যার বিচারের জন্য দিকদ্বিদিক ছুটছেন। কিন্তু কোনো বিচার পাননি। এর ঠিক আট বছর পর ঠিক এমন আরো একটি ঘটনা ঘটে। রহস্যময় এই কিডন্যাপিং ও হত্যার মত রোমহর্ষক ঘটনার কোনো কিনারা পাওয়া যায় না। ছবিতে ফাদার চরিত্রে অভিনয় করছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী আর পুলিশ অফিসার হিসেবে আছেন বিদ্যা বালান। তিন সুপারস্টার অভিনীত ‘তিন’ ছবির পুরো শুটিংয়ের বেশির ভাগই হয়েছে কলকাতায়। এই সিনেমা প্রসঙ্গে বলিউড শাহেনশাহ একটি সাক্ষাৎকার দিলেন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে। প্রিয় ডট কমের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল।

‘পিকু’ সিনেমায় ভাস্কর ব্যানার্জি। ‘তিন’ ছবিতে জন বিশ্বাস। চরিত্রটার সঙ্গে একাত্ম হলেন কিভাবে?

অমিতাভ বচ্চন: জন বিশ্বাস একজন অ্যাংলো বাঙালি। নিম্ন-মধ্যবিত্ত, ছাপোষা, দুঃখী একটা মানুষ। নির্দেশক ঋভু প্রথমেই বলে দিয়েছিল, চরিত্রটা যেন কোনওভাবে টিপিক্যাল না হয়ে দাঁড়ায়। ‘পিকু’তে ভাস্কর ব্যানার্জির হিন্দি উচ্চারণে একটা বাংলা টান ছিল। এখানে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রেখেছিল ঋভু। জন বিশ্বাসের চরিত্রটার জন্য ঋভু আর সুজয় মিলে প্রচুর রিসার্চ করেছে। কলকাতার অ্যাংলো-বাঙালি পরিবারগুলোকে কাছ থেকে দেখেছে। তাদের সঙ্গে মিশেছে। জন বিশ্বাস এতটাই সাদামাঠা, যে ক্যামেরার সামনে অতটা সহজ সরল হওয়াই কঠিন ছিল।

ছবিতে আপনি গানও তো গেয়েছেন।

অমিতাভ বচ্চন: আমি গাইতে পারি না একেবারেই! তবে এই গানটাকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলা চলে। জন তার হারিয়ে যাওয়া নাতনির সঙ্গে কথা বলছে গানের মধ্যে দিয়ে। যদি সে আবার ফিরে আসে, তাহলে নাতনিকে কী বলবে, সেটা নিয়েই গান।

কলকাতায় শ্যুটিং করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবার?

অমিতাভ বচ্চন: শ্যুটিং‌টা তো প্রথমে পুরোটাই গোয়ায় হওয়ার কথা ছিল। কারণ অ্যাংলো পরিবারের প্রেক্ষাপট গোয়াতেই সবচেয়ে ভাল দেখানো যেত। কিন্তু অনুমতি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা দেখা দিল। তাই কলকাতায় চলে এলাম আমরা। এই শহরটা সুজয় আর ঋভু হাতের তালুর মতো চেনে। আর আমার কাছে কলকাতা আগের মতোই ওয়েলকামিং। সেই প্রথম যখন চাকরি করতে এসেছিলাম, ঠিক তখনও এ রকমই দেখেছিলাম। সেই একই প্যাশন, একই প্রাণশক্তি এখনও রয়েছে শহরটায়। আমি তো আমার সহকর্মীদের সব সময় বলি, যখনই অবসাদে ভুগবে, সোজা কলকাতায় চলে যাও! মন ভাল হয়ে যাবেই।

শ্যুটিংয়ের সময় কতটা সহযোগিতা পেয়েছিলেন?

অমিতাভ বচ্চন: কলকাতার মানুষ সব সময়ই সহযোগিতা করেন। আগেও দেখেছি এটা। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি এ শহরের মানুষের একটা আলাদা রকমের শ্রদ্ধা-ভালবাসা আছে। আর সেই আবেগটা তারা দেখাতে পছন্দও করেন। যে কারণে আমাদের শ্যুটিংয়ের সময়েও বেশ সুবিধে হয়েছিল। সুজয়-ঋভু মিলে ঠিক করেছিল, রিয়েল লোকেশনেই শ্যুটিং হবে। কলকাতা যেমন, ঠিক তেমনভাবেই তুলে ধরা হবে। হাজারখানেক মানুষ যখন শ্যুটিং দেখতে ভিড় করতেন, তাদের ফ্রেমের বাইরে যেতে বলা মাত্র তারা সেটা বুঝতেন। এবং সরে গিয়ে জায়গা করে দিতেন। কারণ, এ শহরের মানুষ শিক্ষিত। আর কলকাতা পুলিশের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। এবারের শ্যুটিংয়ের অনেকটা অংশই কলকাতা এবং হাওড়ার রাস্তায় শ্যুট করা হয়েছে। সেই সময়টায় খুবই সহযোগিতা করেছেন তারা।

আর কলকাতার বাইরে শ্যুটিং করে কেমন লাগল? বিশেষ করে শান্তিনিকেতনে?

অমিতাভ বচ্চন: খুবই শান্তির জায়গা শান্তিনিকেতন। প্রথম জীবনে যখন কলকাতায় চাকরি করতাম, কখনও আসা হয়নি। এবার গিয়ে কাজের ফাঁকে সুজয় আমাকে অনেকগুলো জায়গায় ঘুরিয়েছে, যেখানে আগে কখনও যাইনি। এমনকি, কলকাতাতেও আমাকে অনেক পুরনো জায়গায় নিয়ে গিয়েছে সুজয়। উত্তর কলকাতার বেশ কয়েকটা জায়গা ঘুরে দেখিয়েছে। কত পুরনো সব স্থাপত্য, দারুণ সব নির্মাণ! আর বাঙালিদের পুরনো জিনিসকে ধরে রাখার একটা অভ্যেস রয়েছে। যেমন দেশপ্রিয় পার্কের একটা পুরনো বাড়িতে শ্যুটিং করতে গিয়ে দেখলাম শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে লেখা একটা নোট রাখা আছে সযত্নে। এগুলো চোখের সামনে দেখাটাও একটা অভিজ্ঞতা!

‘পিকু’তে ছিল সাইকেল। আর ‘তিন’এ স্কুটার। কোনটা বেশি সহজ?

অমিতাভ বচ্চন: সাইকেল! সত্যি কথা বলতে, স্কুটার চালাতে একেবারেই ভুলে গিয়েছিলাম। শেষ চালিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। যখন সুজয় বলল আমাকে স্কুটার চালাতে হবে, বেশ টেনশনই হচ্ছিল। সাইকেল-স্কুটার এগুলো একবার শিখলে কেউ ভোলে না। কিন্তু এত বছরের অনভ্যাস! তাই রোজ সকালে উঠে বাড়ির সামনে প্র্যাকটিস করতাম। কলকাতায় আসার পর মাঠে চালাতাম, যখন কেউ থাকত না। সত্যি কথা বলতে, সাইকেলের চেয়ে স্কুটার চালাতে একটু মুশকিলই হয়েছিল। এখন ওটা সুজয়ের অফিসের নীচে রাখা আছে। এখন সেটির ওপর পাখি বসে থাকে ওটার উপর।

মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে ছবির বেশ কিছুটা অংশ শ্যুট করা হয়েছে। সেলুলয়েড থেকে ফোন ক্যামেরা— সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের এই পরিবর্তনটা কিভাবে দেখেন?

অমিতাভ বচ্চন: আমাদের সময় ফিল্ম রোল একটা মহার্ঘ্য বস্তু ছিল। একটা রিটেক করতেই খুব গায়ে লাগত। ডিজিটাল আসার পর থেকে সেই ব্যাপারটা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে। যদি ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি সংরক্ষণ করে রাখা যায়, বহুদিন থেকে যাবে। আগে একটা শট কয়েক সেকেন্ড থেকে খুব বেশি হলে মিনিটখানেক গড়াত। আর এখন একটানা ১৫-২০ মিনিট ধরে শট নেওয়া যায়। আলোর ব্যাপারেও অতটা সচেতন থাকতে হয় না। ন্যাচারাল লাইটে স্বচ্ছন্দে শ্যুট করা যায় ডিজিটাল ক্যামেরায়। সুজিত সরকারের ‘পিংক’ ছবিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এখনকার ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে এগুলোই তো শেখার আছে।

আর এখনকার অভিনেতারা? নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, বিদ্যা বালানের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?

অমিতাভ বচ্চন: খুবই শক্তিশালী দু’জন অভিনেতা। বিশেষত নওয়াজের সঙ্গে আমার অনেকটা অংশে কাজ ছিল। অনেক কিছু শিখলাম ওর থেকে। ক্যামেরার সামনে অসম্ভব সাবলীল নওয়াজ!

ঋভুর ছবি করতে রাজি হলেন কেন?

অমিতাভ বচ্চন: ঋভুর সঙ্গে পরিচয় টেলি-সিরিজ ‘যুদ্ধ’এর সময় থেকে। প্রথমে ওটা অনুরাগ কাশ্যপের পরিচালনা করার কথা ছিল। পরে ঋভু আসে ওর বদলে। তখনই প্রথম আলাপ তার সঙ্গে। সিরিজটা খুব বেশিদিন ধরে চলেনি। কিন্তু তার কাজ আমার ভাল লেগেছিল।

ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল এই শহরে। এখন আবার ছবির জন্য কলকাতায় ফিরে আসতে হচ্ছে বার বার। এটা কি একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করার মতো?

অমিতাভ বচ্চন: আমি ঠিক ওভাবে দেখি না বিষয়টা। কলকাতায় আসা আমার কাছে নস্ট্যালজিয়া। এখানে চাকরি করতাম। পরে অ্যামেচার নাটকের দলে যোগ দিয়েছিলাম। এখানে এলে সেসব কথাই মনে পড়ে বার বার।






মন্তব্য চালু নেই