মেইন ম্যেনু

সাকাকে নিয়ে চাপে পরিবার, পাশে নেই তারা কেউ

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির মুখে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ফাঁসি ঠেকাতে আইনি জটিলতায় চাপের মুখে পড়েছেন স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে।

নীরব রয়েছেন তার এক সময়ের একান্ত অনুসারীরাও। যাদের অনেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাশে থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রামের বাঘ উপাধিসহ নানারকম “তেল-ঘি” দিয়ে ফায়দা লুটেছেন। অনেকে এখনও তার স্ত্রী-পূত্রসহ পরিবারের সদস্যদের “তেল-ঘি” ঢেলে ফায়দা লুটছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা নেতাদের ফোন করা হলেও সাকার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তারা প্রসঙ্গ পাল্টে অন্যদিকে চলে যান। কেউ কেউ আবার আলাপকালে সাকা প্রসঙ্গ তুলতেই ফোনের সুইস অফ করে দেন। কেউ সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্রই কল কেটে দিয়েছেন। একইভাবে আইনি জটিলতার অজুহাতে কিছু বলতে নারাজ সাকার স্ত্রী, সন্তানেরাও।

তবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাবাকে বাঁচাতে শরীরের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দেবেন তারা। বুধবার তাদের রিভিউ আবেদন করার কথা জানান।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে সংযোগ মেলেনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের মোবাইলেফোনেও।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা অধ্যাপক মহসিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ চৌধুরীসহ একাধিক নেতার মুঠোফোনে কল করা হলেও রিসিভ করেননি তারা।

তবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে কোনো নির্দেশনা নেই। আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও নেই। তাই এ ব্যাপারে আমাদেরও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

তিনি আরও বলেন, শুধু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নয়, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, উপজেলাসহ দলের এমন কোনো নেতাকর্মী বাকি নেই যাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ২০টিরও কম মামলা আছে। অনেকে তো কারাবন্দি অবস্থায় আছে। ফলে রাজনীতি করার মতো কোনো সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তো বিএনপির মৌসুমী নেতা। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টি করেছেন। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীও ছিলেন। পরে তিনি নিজের দল এনডিপি প্রতিষ্ঠা করেন। রয়েছেন দলের নেতাকর্মীও। যারা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত। কই তাদের কারও তৎপরতা তো দূরের কথা মুখেও তো কোনো কথা নেই।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কাশিমপুর কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তার ফাঁসির রায় প্রকাশ এবং আদালত অবমাননাসহ কয়েকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ও সন্তানদের। এ মামলায় লড়তে তারা চট্টগ্রামের বাসভবন গুডস হিল ছেড়ে স্ব-পরিবারে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম গুডস হিলে সুনশান নীরবতা। তবে রয়েছে নিরাপত্তা রক্ষিদের কড়া প্রহরা। প্রবেশপথে তিনজন নিরাপত্তারক্ষী সার্বক্ষণিক প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছেন। ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তারা সেখানে কেউ নেই বলে জানান। ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই