মেইন ম্যেনু

সাকিবের রেস্তোরাঁয় ক্রিকেটের ছোঁয়া

জহির উদ্দিন মিশু : ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকাল ৫টার কিছু বেশি। বনানীর ১১ নম্বর রোড দিয়ে সামনে এগোচ্ছি। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন বললেন, ভাই সাকিবের রেস্তোরাঁটা কোথায়? এনিয়ে বিনিয়ে উত্তরে বললাম, চলুন আমার সাথে।

হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে দেখা মিলল সাকিবের রেস্তোরাঁ ‘সাকিব’স ডাইনের। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখি এ এক অন্যরকম আবহ। একদিকে চমৎকার ‘স্পোর্টস লাউঞ্জ’। আরেকদিকে হোটেলের মনোরম পরিবেশ। যা সত্যিই স্বচক্ষে না দেখলে বুঝাই যাবে না। রং-বেরঙ্গের পোস্টার আর আলোকসজ্জায় যে কারো মন কাড়বে রেস্তোরাঁটি।

পুরো রেস্তোরাঁ যেন সাজানো হয়েছে স্পোর্টস জাদুঘর স্টাইলে। দেয়ালটা মাঠের ঘাসের মতো সবুজ টার্ফে তৈরি। একপাশে ব্যাটিংয়ের চিত্রকর্ম, অন্যপাশে সাকিব আল হাসানের কলকাতা নাইট রাইডার্স ও বাংলাদেশ দলের দুটি জার্সি।

দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও একটি রুম। ওই রুমের দেয়ালে টানানো ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের জাতীয় পতাকা। এ ছাড়া, ব্যাট, গ্লাভস, হেলমেটও শোভা পাচ্ছে দেয়ালে। সরাসরি খেলা দেখার জন্য থাকছে দুটি প্রজেক্টর ও টিভি, যা আলাদাভাবে সবার নজর কাড়বে।

মূলত এশিয়ান ফিউশনধর্মী খাবারই ‘সাকিব’স ডাইনের মূল আকর্ষণ। সাথে পাওয়া যাবে ক্রিকেটের বিভিন্ন বইও। তার মানে, আপনি আড্ডা এবং খাবারের সাথে এবার ক্রিকেটটাও পাচ্ছেন এখানে।

নেয়ামত আলী, পেশায় একজন ব্যবসায়ী। কেমন লাগল রেস্তোরাঁর খাবার এমন প্রশ্নের জবাবে রীতিমত মুচকি হেসে বলেন, ‘খাবারের মান বেশ ভালো। আমি আজ প্রথম খেয়েছি। পরিবেশটা খুবই চমৎকার।’

সোহরাব হোসেন। রেস্তোরাঁর ওয়েটার। সাকিব আল হাসান রেস্তোরাঁয় কেমন যাওয়া-আসা করেন, শুনলাম তাঁর মুখ থেকে। ‘স্যর (সাকিব) তো মাঝে-মাঝে আসেন। এসে আমাদের খোঁজ খবর নেন। অনেক সময় ম্যাডামকে (সাকিবের স্ত্রী শিশির) সঙ্গে নিয়ে রেস্তোরাঁয় সময় কাটান।’

সাকিব সর্বশেষ রেস্তোরাঁয় কবে এসেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েটার সোহরাব বলেন, ‘গত ২ তারিখ এসেছিলেন স্যর (সাকিব)।’

‘এখানে যারা আসবেন, আশা করছি, তাঁরা সন্তুষ্টই হবেন’ এমন মন্তব্য ছুড়লেন রেস্তোরাঁর ম্যানেজার। বাদ যাননি বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা ছোট্ট শিশু নাদিয়াও। হেলে দুলে মনের আনন্দে কথার ফুটুনিতে বলেই যাচ্ছেন ‘বাবা চিকেন খাবো।’

সবমিলিয়ে বলা যায়, সময় কাটানো, আড্ডা দেয়া থেকে শুরু করে রকমারি সব খাবারের স্বাদ উপভোগ করা যাবে ‘সাকিব’স ডাইন’ রেস্তোরাঁয়। বনানীর ১১ নম্বর রোড ধরে এগিয়ে গেলে সুমি’স হট কেক এর পাশের বিল্ডিংয়েই পেয়ে যাবেন অলরাউন্ডারের এই অলরাউন্ড লাউঞ্জটি।






মন্তব্য চালু নেই