মেইন ম্যেনু

সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। অনবরত উত্তাল সাগরের গভীরে জাল পাতলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার রুপালী ইলিশ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য বন্দর পাথরঘাটায় জেলে আর পাইকারের পদভারে এখন উৎসবমুখর। বাজারে ইলিশের দর মন প্রতি কমেছে ১৫ হাজার টাকা। মাছ শিকারে সাগরের উন্মত্ততাই সমস্যা।

পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকারি বাজরে সকালে গিয়ে দেখা যায় শতশত মাছ ধারার ট্রালার সাগর থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরেছে। ট্রলার থেকে মাছ তোলায় ব্যস্ত জেলে ও ঘাট শ্রমিকরা। কারো সাথে কথা বলার ফুরসুৎ নাই। বিক্রিতে ব্যস্ত আরৎদার ও পাইকারগন। চলছে মাছ নিলামের ডাক চিৎকার।

বৈশাখ মাসে মৌসুম শুরু হলেও এমন খুসির ঝিলিক এতোদিন দেখা যায়নি। সাগরে যারা গভীরে জাল পাততে পেরেছে তারা ট্রলার প্রতি ৯ হাজার পর্যন্ত ইলিশ মাছ শিকার করতে পেরেছে। এফবি সন্ধানী ট্রলারের মালিক বরগুনার সানু মল্লিক বলেন, তার ট্রলারে ৯ হাজার মাছ পাওয়া গেছে। তাতে তিনি প্রায় ১৮ থেকে ১৯ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবে।

জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মন্নান মাঝি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের এফবি সীমা ট্রলারের মালিক আনসার খান ৪ হাজার মাছ পেয়েছে। এভাবে যারা উত্তাল সাগরে ঝড় উপেক্ষা করে জাল ফেলতে সক্ষম হয়েছে তারাই প্রচুর মাছ শিকার করতে পেরেছে। তার দাবি, মৌসুম শুরু হলেও গত প্রায় দেড় মাস যাবৎ একটার পর একটা ঝড় থাকায় জেলেরা বাজার সওদা নিয়ে সাগরে গিয়ে জাল ফেলতে না পেরে ফিরে আসতে হয়েছে।

দেশের বৃহৎ মৎস্য পাইকারি বাজার পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রর ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. সোলায়মান শেখ জানান, জুন মাসের প্রথম থেকেই সামান্য মাছ আসলেও হঠাৎ করে ৯ ও ১০ তারিখে প্রচুর মাছ বাজারে আসে। কেবল মাত্র ৯ তারিখে ৬০ টনের বেশি মাছ বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। হঠাৎ মাছের প্রচুর্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দরের পতন হয়ে কিছুটা স্বভাবিক হয়ে মন প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টাকা দরে। আগের দিন একই মাছ বিক্রি হয়েছে মনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা দরে।

এদিকে মাছের প্রাচুর্যতায় শুধু জেলে বা শ্রমিকরাই নয় আনন্দ উপকূলের সকল ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। সামনে ঈদ থাকায় সকলের মনে প্রাণোল্লাসের দেখা দিয়েছে।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, এ বছর সাগরে ডাকাতের উপদ্রব নেই। তবে সাগর উত্তাল থাকছে প্রতি দিনই। তবে এভাবে মাছ পড়তে শুরু করলে জেলেরা লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবে।






মন্তব্য চালু নেই