মেইন ম্যেনু

সাজানো গোছানো জাপানি নগরীটি এখন ভুতুড়ে এলাকা

দফায় দফায় ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত সূর্যোদয়ের দেশ এবং আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ জাপান। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির এই দেশ ভৌগলিকভাবে ভূমিকম্প প্রবন এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দেশটিতে আঘাত আনে অন্তত দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প।এখন পর্যন্ত ৪২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলেও, গৃহহীন হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। প্রবল বৃষ্টি এবং ঠাণ্ডায় নাজেহাল গৃহহীন কয়েকশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।

উদ্ধার তৎপরতা দেখতে কিউসু অঞ্চলে ছুটে যান জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবে। উদ্ধার কর্মীদের তিনি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৎপরতা চালাতে বলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক দফা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কুমামতো শহরের মাইশি এলাকা। সাজানো গোছানো মাইশি এক রাতের তা-বে পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে এলাকায়। মাত্র ৩০ সেকেন্ড রাস্তায় হাঁটলেই চোখে পড়বে একের পর এক ধ্বংসস্তূপ। এই এলাকার বেশিরভাগ ভবনই দুই তলা কিংবা ছোট ছোট অ্যাপার্টমেন্ট। এসব ভবনের বারান্দাগুলো ভেঙে রাস্তার উপরে চলে এসেছে। ঝাঁ চকচকে সড়কগুলোতে ধরেছে বিশাল বিশাল ফাটল। ভবনের ছাদ ভেঙে পরে আছে সড়কে। ধীর গতিতে গাড়ি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

উভয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামতো প্রদেশের খুব কাছাকাছি। সুতরাং এই প্রদেশের সড়ক, সেতু, টানেল এবং বাড়িÑঘরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাবর্ত্য অঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রবল ভূমিধসের কবলে পড়েছে। কুমামতো প্রদেশের প্রায় এক লাখ ভবন বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন। এছাড়া চার লাখ ভবনে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের আতঙ্কে বাসিন্দারা রাত কাটাছে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে।

সরকারি তথ্য মতে, দুদফা ভূমিকম্পে দুহাজার আহতকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আশঙ্কা করা হচ্ছে এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পরে আছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০ হাজার সেনা, অগ্নি নির্বাপক কর্মী এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কয়েকশ মানুষ খোলা আকাশের নিচে শুধুমাত্র একটি কম্বল গায়ে দিয়ে রাত কাটাচ্ছে। রাস্তায় তাঁবু খাটিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত নয়। গৃহহীন মানুষ এই মুহূর্তে মাথা গুঁজার ঠাঁই খুঁজছে। সেই সঙ্গে চায় পানি এবং খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই