মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরায় এবার ভূল চিকিৎসায় প্রাণ গেল গৃহবধূর, আটক ৩

অনুমোদনহীন সাতক্ষীরা শহরের একতা ক্লিনিকে এবার ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল কুড়ি বছর বয়সী গৃহবধু সুমনা খাতুনের। নিহত সুমনা খাতুন সদর উপজেলার বকচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লার কন্যা এবং একই উপজেলার রেউই গ্রামের লিটন হোসেনের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে শহরের পুলিশ সুপার বাসভবনের নিকটবর্তী পলাশপোলস্থ একতা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে তার তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অপারেশন থিয়েটারে থাকা দুই ডাক্তার ডা. দেবদুলাল ও ডা. সুদীপ্ত শেখর দেবনাথ এবং ক্লিনিক মালিক হরিপদ ও ভৈরব চন্দ্র সরকার পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের গ্রেপ্তারের দাবীতে ওই রাতেই বিক্ষোভ করে। পুলিশ এ ঘটনায় রাতেই দুই ওয়ার্ড বয়সহ ৩ জনকে আটক করেছে।

নিহত সুমনা খাতুনের ভাই মো. হোসাইন আলী ও মামা মনিরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার বকচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লার কন্যা সুমনার সাথে সদর উপজেলার রেউই গ্রামের লিটন হোসেনের ৩ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। সুমনা গর্ভবতী হওয়ায় সে বকচর গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকতো। বৃহস্পতিবার রাতে সে অসুস্থ হলে তাকে একতা ক্লিনিকে নেয়া হয়। এরপর দশ হাজার টাকা চুক্তিতে সেখানে অপারেশন থিয়েটারে তাকে সিজার করা হয়। তাকে এ সময় সিজার (অপারেশন) করেন সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত বিতর্কিত ডাক্তার ডাঃ দেবদুলাল। এ সময় তাকে অজ্ঞান করেন ডা. সুদীপ্ত শেখর দেবনাথ।

নিহতের বড় ভাই আরো জানান, অপারেশনের থিয়েটারেই ভুল চিকিৎসায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার বোনের একটি পুত্র সন্তান ভুমিষ্ট হয়।
এ ব্যাপারে ডাক্তার দেবদুলাল জানান, রুগীর অবস্থার অবনতি দেখে সুমনাকে দ্রুত খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে শহরের অদূরে বিনেরপোতায় এলাকায় গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

পরে এ ঘটনায় সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওয়ার্ড বয় আশাশুনির কোদন্ডা গ্রামের খোরশেদ আলীর পুত্র আরাফাত হোসেন (২৭), তারাপদ মন্ডলের পুত্র কৃষ্ণ মন্ডল (৩১) ও আয়া শিরিনা খাতুনকে আটক করে। তবে নিহত সুমনার পুত্র সন্তানটি বর্তমানে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই