মেইন ম্যেনু

ঘুষের টাকা ফেরৎ না দেওয়ায়

সাতক্ষীরায় মাদ্রাসা সুপারকে জবাই করে হত্যা

আবুল কাশেম, সাতক্ষীরা থেকে: ঘুষের টাকা ফেরৎ না দেওয়ায় এক মাদ্রাসা সুপারকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার দুপুর পৌনে দু’টোর দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর সৈয়দ হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শেখ বাবুল আক্তার (৩৮)। তিরি শ্যামনগর উপজেলার জিন্নাতপুর গ্রামের শেখ আনছার আলীর ছেলে।

জিন্নাতপুর গ্রামের পাপিয়া খাতুন জানান, নূরনগর মহিলা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৩ সাল থেকে তার স্বামী বাবুল আক্তার সুপারিনটেনডেণ্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ওই মাদ্রাসার ঝাড়ুদার উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের মোহাম্মদ সরদারের ছেলে আবুল কালাম নৈশপ্রহরী/দফতরী পদে চাকুরি করিয়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন নিবেদন করে আসছিলেন। কিন্তু কালামের পরিবর্তে চাকরি পান তাদেরই এক আত্মীয় কালীগঞ্জ উপজেলার টুঙ্গী গ্রামের বকুল হোসেন। এতে ক্ষুব্ধ ছিল কালাম। এরই জের ধরে গতকাল দুপুর পৌনে দু’টোর দিকে বাজার থেকে নিয়ে আসা সবজি ভর্তি ব্যাগ বাড়িতে রেখে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নূরনগর সৈয়দ হোসেনের বাড়ির পাশে বাবুল আক্তারকেকে পিছন দিক থেকে ধারালো রাম দা দিয়ে এক কোপে জবাই করে হত্যা করে কালাম। হত্যা করার পরপরই স্বপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যায় সে।

এদিকে হত্যাকারি আবুল কালামের চাচাত ভাই সামছুর রহমান জানান, নৈশ প্রহরী/দফতরী পদে চাকুরি নিশ্চিত করার জন্য বাবুল আক্তার ২০১৪ সালে ভাই আবুল কালামের কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নেয়। নিজের জমি বিক্রি, ধার ও শ্বশুর বাড়ি থেকে সে ওই টাকা সংগ্রহ করেছিল। প্রতি মাসে ধার করা টাকার মোটা অংকের সুদও গুনতে হতো তাকে। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরৎ চেয়েছিল কালাম। টাকা ফেরৎ না দেওয়ায় কালাম ক্ষুব্ধ ছিল বাবুল আক্তারের উপর। এরই জের ধরে চার ছেলে ও এক মেয়ের জনক বাবুল আক্তারকে গতকাল দুপুরে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ তেজেন্দ্রে নাথ মন্ডল আওয়ার নিউজ বিডি’কে জানান, পিছন দিক থেকে আঘাত করা ধারালো অস্ত্রে বাবুল আক্তারের শ্বাসনালীসহ গলদেশ ও ঘাড়ের সমগ্র অংশ কেটে যায়। ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।

শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান আওয়ার নিউজ বিডিকে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য আজ শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা ও হত্যাকারিকে গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মেঝ ভাই শেখ জিয়াউর রহমান বাদি হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় আবুল কালামের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই