মেইন ম্যেনু

বিচ্ছিন্ন ঘটানার অভিযোগে ১২ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত

সাতক্ষীরায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহন সম্পন্ন, ফলাফলে জন্য অধীর অপেক্ষা

একরামুল কবীর, ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সাতক্ষীরা: দু’একটি কেন্দ্রে সামন্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাতক্ষীরা জেলার ইউপি নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোন কেন্দ্রে অনৈতক প্রবেশ বা অবৈধ ভাবে ভোট দেওয়ার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করে ফেলছেন। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারনে জেলার ১২ টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

সকাল ৮ টার সময় ভোট গ্রহন শুরু হওয়ার অনেক আগেই শত শত ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে এসে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশী। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী পুলিশের সাবেক পরিদর্শক এ্যাডভোটেক মহিদুর রহমান এক অভিযোগে জানান, সোমবার রাতে ২০/৩০ মটর সাইকেলের বহর নিয়ে নৌকা প্রতীকের নেতা কর্মীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কাঠালতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ২/৩ টি বোমার বিষ্ফোরন ঘটায়ে ছিল। প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ৩০/৩৫ টি মটর সাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। তারা আমার ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে দিচ্ছে না। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বার বার অভিযোগ করেছেন। কিšুÍ কোন কাজ হচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের পাথরঘাটা কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী নাজমুল হোসেনকে প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থী সেলিম হোসেনর কর্মীরা মারপিট করে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে। খরব পেয়ে পুলিশ বিজিবি এর টহল দল ঘটনাস্থালে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কলারোয়া উপজেলার ৯ নং হেলাতলা ইউনিয়নের হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভোট কেন্দ্র, দামোদারকাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দমদম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাপাঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৬ নং সোনাবাড়িয়ার বিভিন্ন কেন্দ্র ৫ নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্র ৮ নং কেরালকাতা ইউনিয়ন,১০ নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে শান্তিপূর্ণ ভাবে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহন চলছে। তবে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট হচ্ছে না। ঐ ইউনিয়নের আ’লীগ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান নির্বাাচিত হয়েছেন। সে জন্য সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র গুলোতে বাড়তি কোন চাপ লক্ষা করা যায়নি।

হেলাতলা কেন্দ্রে দক্ষিন দিঘং গ্রামের ১শ’৮ বছর বয়স ডোলা গাজী তার স্ত্রী বরিজান বিবি ৯০ কে নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন হুইল চেয়ারে করে পঙ্গু আমির আলী মোড়ল (৪৫) । ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ দিঘং গ্রামের আমিনুল ইসলাম। সোনবাড়িয়া কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন শারিরিক প্রতিবন্ধি আলাউদ্দীন (২৬)। সে এসেছিল ক্রাসে ভর করে। দমদম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন ৯০ বছর বয়সের বৃদ্ধা চেঁড়াঘাট গ্রামের মৃত নূর আলী গাজীর স্ত্রী সামেত্তভান বিবি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কোন বাধা বিপত্তি ছাড়াই ভোট দিতে পেরে তারা ভীষন খুশি।

কলারোয়া উপজেলার মোট ১০৯ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯ টি কেন্দ্র ঝুঁকি পূর্ণ বলে গণ্য করা হয়েছিল। আর সে কারনে উপজেলার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৬ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ্য আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ৭ শতাধিক পুলিশ সদস্য, ১ প্লাটুন ব্যাব ও ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য এবং পর্যপ্ত পরিমান ম্যাজিট্রেট গণের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। কোন কেন্দ্রে কোন সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করার জন্য প্রস্তুত ছিল মোবাইল টিম।
ভোট গ্রহন এর আগে জন সাধারনের মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছিল ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা বা সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহন হবে কিনা।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভোট শান্তিপূর্ন পরিবেশে বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন সম্পন্ হয়েছে। এখন অপেক্ষা ফলাফলের। সাতক্ষীরা জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রানের দাবী ভোট গ্রহন যেমন সুষ্ট হয়েছে। তেমন ফলাফল ঘোষনার পর যেন এলাকার পরিস্থিতি শান্ত থাকে।






মন্তব্য চালু নেই