মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরা ও কলারোয়া পৌরসভায় নজিরবিহীন শান্তিপুর্ণ ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত

দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাতক্ষীরা ও কলারোয়া পৌরসভার ৪০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহন শান্তিপুর্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলারোয়া পৌরসভায় শতকরা ৭৫ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন । আর সাতক্ষীরা পৌরসভায় ৭০ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এদিকে খাবার দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপরাধে সাতক্ষীরা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ মাহমুদ পাপার দুই সমর্থককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার সকালেই কলারোয়া পৌরসভার ঝিকরা ভোটকেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত হোসেনের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন,নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টুর লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার এজেন্টদের কেন্দ্রে আসতে দেয়নি। তুলসিডাঙ্গা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে আব্দুল আজিজ নামের একজন ভোটারকে আটকে রাখে পুলিশ। ঘন্টা দু’য়েক পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
খাবার দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপরাধে সাতক্ষীরা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ মাহমুদ পাপার দুই সমর্থককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার পৌনে ৪টার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার সরকারি কলেজ কেন্দ্রের সামনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের এই জরিমানা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন জানান, নিজেদের দোকানে খাবার মজুদ রেখে তা ভোটারদের মধ্যে বিতরণের অভিযোগে সরকারি কলেজ মোড়ের দোকানী করুনাময়ীকে তিন হাজার ও সুকুমার অধিকারীকে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে সুকুমার অধিকারী জানান, তারা ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য খাবার দেননি। নিজেদের কর্মী ও পোলিং এজেন্টদের দেওয়ার জন্য খাবার এনেছিলেন।
সাতক্ষীরা ও কলারোয়া পৌরসভার বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী তাশকিান আহমেদ চিশতি ও আমিনুল ইসলাম লাল্টু ভোট গ্রহন শান্তিপুর্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার এএফএম এহতেশামুল হক জানান, সাতক্ষীরার ৩১টি কেন্দ্রে আনুমানিক ৭০ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অপরদিকে কলারোয়া পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৭৫ ভাগ বলে নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার আহম্মেদ আলী।
প্রসঙ্গত, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২০ জন করে নিরাপত্তাকর্মী কাজ করেছেন। এরমধ্যে একজন এসআই’র নেতৃত্বে ৮ জন পুলিশ ও ১২জন আনসার সদস্য ছিলেন। এর বাইরে দু’টি পৌরসভায় ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৯টি ভ্রাম্যমান টিম কাজ করেছেন। টহল দিয়েছেন তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এছাড়া দু’পৌরসভায় দু’জন সহকারী পুলিশ সুপার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। সাতক্ষীরা পৌরসভায় মোট ভোটার ছিল ৭৯ হাজার ৬শ’ ৩৪ জন এবং কলারোয়া পৌরসভায় ভোটারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৫শ’ ২৫ জন।

কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে অবাধ,সুষ্ট,নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটারা তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। তবে কেন্দ্রগুলোর সামনে শোভা পায়নি প্রতীক সম্বলিত পোষ্টার। কেন্দ্রের বাইরে ভোটার স্লিপ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। কলারোয়া পৌর সদরের ৯টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসাররা জানান, প্রত্যেক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রার্থীদের এজেন্টরা সুষ্ঠভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের জন্য কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,আনসারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিণীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত প্রতি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা যা ছিল তাতে প্রতি দুই মিনিটে ১জন করে ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের আরো উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুর ২ টার আগে প্রতি কেন্দ্রে শতাকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ভোটার তাদের ভোটারধিকার প্রয়োগ করেন।
পৌর নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা আহমেদ আলী জানান, কলারোয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহনের জন্য ৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার,৬৬টি জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১২৬ জন পোলিং অফিসার দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান,শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ২০ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে (প্রত্যেক কেন্দ্রে ) একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৮ জন পুলিশ ও সাধারন কেন্দ্রে ৭ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। এর বাইরে ৪জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৪টি ভ্রাম্যমান টিম কাজ করেছেন। এ ছাড়া একজন সহকারী পুলিশ সুপার সার্বক্ষনিক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
এ দিকে বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত কলারোয়া পৌর সভার ৯টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কভীর পিপিএম বার,সহকারী পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের আলীসহ পুলিশের উর্দ্বোতন কর্মকর্তাগন।
মেয়রপদে আ’লীগ,বিএনপি,জাতীয়পাটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই