মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরা জেলা আহলে হাদীসের সেক্রেটারী অপহ্নত, সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা জেলা জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারী, কেন্দ্রীয় জমঈয়তে আহলে হাদীসের যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ গয্নফরের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার ও তার সংগঠনের নেতারা। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ওবায়দুল্লাহ গয্নফরের মেয়ে প্রভাষক মাহমুদা আখতারী মুন্নি বলেন, আমার পিতা কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তিনি অরাজনৈতিক সংগঠন জমঈয়তে আহলে হাদীস সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অপহ্নত ওবায়দুল্লাহ গয্নফরের মেয়ে মাহমুদা আখতারী মুন্নি, জমঈয়তে আহলে হাদীসের জেলা সভাপতি মাওলানা মো: রফিউদ্দিন আনছারী ও সাতক্ষীরা শহর আহলে হাদীস জামে মসজিদের সেক্রেটারী অধ্যাপক গাজী আবুল কাশেম যৌথ স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের কলারোয়া উপজেলার তুলশিডাঙ্গা এলাকা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি মাইক্রোবাসযোগে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকেলে পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের ঘটনা উল্লেখ করে তার মেয়ে মাহমুদা আখতারী কলারোয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদা আখতারী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তার পিতা ওবায়দুল্লাহ গয্নফর ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোটরসাইকেলযোগে বাঁগআচড়া বোডখানায় যাচ্ছিল। জমিয়তে আহলে হাদীসের একটি সাংগঠনিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তিনি বাড়ি থেকে রওনা হন। কলারোয়ার তুলশিডাঙ্গা এলাকায় পৌছানোর পর পিছন দিক থেকে পরপর ২টি মাইক্রোবাস এসে তার গতিরোধ করে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থামালে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ওই মাইক্রোবাস থেকে বেরিয়ে এসে তার হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে দ্রুত যশোরের দিকে চলে যায়। এর পর থেকে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে সেসময় সেনা কর্মকর্তা খলিলুর রহমানকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অপহ্নত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ গয্নফরের মেয়ে মাহমুদা আখতারী আরও জানান, তার পিতা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শুক্রবার বিকেলে কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ গয্নফর দীর্ঘদিন সাতক্ষীরা সিটি কলেজে, পাটকেঘাটা হারুন-অর-রশিদ ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ তিনি সাতক্ষীরা শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন। এই পদে থাকাকালীন সময়ে চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত প্রয়াত ড. আব্দুল বারীর প্রতিষ্টিত সংগঠন জমিয়তে আহলে হাদীস সংগঠনের সাথে জড়িত। সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় আহলে হাদীস জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে বহুদিন তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদাচ্ছের হোসেন দুপুরে জানান, সাতক্ষীরা পুলিশ তাকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ গয্নফর নামের কাউকে পুলিশ আটক করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ গয্নফর কোন সময় কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না। কুরআন ও সহীহ আদীসের একজন বলিষ্ঠ প্রবক্তা হিসেবে আমরা তাকে জানি। বিধায় একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে যাতে যথাসময়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয় তার পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা রফিউদ্দিন আনছারী, অধ্যাপক আবুল কাশেম, অধ্যাপক ইনামুল হক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোত্তাজুল হক, অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আবু তাহের, ফজলুল হকসহ জমঈয়তে আহলে হাদীসের জেলা নেতৃবৃন্দ।






মন্তব্য চালু নেই