মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরা বিএনপি: কোথায় সেই হুঙ্কার-গর্জন? আলো জ্বালানোর যেন আজ কেউ নেই!

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি চলছে শুধু প্রেস রিলিজে। মাঠে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যা দু-একটি কর্মসূচি পালিত হয় তা চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। দলের বর্তমান সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশ রাজধানী ঢাকায় থাকেন। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম লোক চক্ষুর অন্তরালে। জেলা বিএনপি এখন মাঝিবিহীন নৌকার মতো। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে নেতৃত্বে সংকট চরম আকার রূপ নিয়েছে।দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দিন দিন ক্ষীণ হয়ে পড়ছে আশার আলো। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার জ্বালিয়ে রাখার মতো নেতৃত্ব জেলা বিএনপিতে নেই বলে মনে করেন তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতারা।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির হাল ধরার মতো আপাতত কোনো নেতৃত্ব নেই। কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি সাতক্ষীরায় পালিত হয় না। চার দেয়ালের মধ্যে কয়েকজন নেতাকর্মী চা-চক্রের পর পত্র-পত্রিকায় প্রেস রিলিজ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। আভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়া জেলা বিএনপিকে সংগঠিত করার কোনো উদ্যোগ নেই। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। ঝিমিয়ে গেছেন তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতারা।

জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালের ২৪ অক্টোবর সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। নেতাকর্মীরা নতুন এ কমিটি উপহার দেওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানান।

নতুন কমিটি জেলার সাত উপজেলা ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপিকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন। সাত উপজেলার মধ্যে তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মৃণাল কান্তি রায় এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শফিকুল ইসলাম। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম ও সম্পাদক হন স ম শহিদুল ইসলাম। দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম ফারুক বাবু। আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন এস এম রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হন রুহুল কুদ্দুস। কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক হন নূর মোহাম্মাদ পাড়। শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হন সিদ্দিকুর রহমান।

কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন বজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হন রফিকুল ইসলাম। রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর বর্তমানে এ পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুর রকিব মোল্লা।

এছাড়া সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মাসুম বিল্লাহ শাহীন।

এসব কমিটি গঠন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে থাকেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আন্দোলন সংগ্রামে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই জাতীয়তবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় বিএনপির দেয়া কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হয়। নেতাকর্মীরা রাজপথে মিছিল মিটিং করে মুখরিত রাখেন।

কিন্তু হঠাৎ করে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা বিএনপি। ক্রমে নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বের আচরণে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন।

এমন পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে অভ্যন্তরীণ কোন্দেলে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যা করা হয় জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্যাহ আমানকে। আমান হত্যার পর ওই দিনই সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

এরপর ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রহমত উল্লাহ পলাশকে সভাপতি ও আব্দুল আলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় বিএনপি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করে। নতুন কমিটি ঘোষণা হলেও নতুন কোনো চমক দেখাতে পারেননি জেলা বিএনপির সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম। দলের সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশ থাকেন ঢাকায়। চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম একাধিক মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির কর্মসূচি শহরের আমতলা মোড়স্থ একটি বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে বসে পালন করা হয় বলে জানায় সূত্র।

এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার প্রধান আসামি ও জেলার সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবও অবস্থান করছেন ঢাকায়। এছাড়া কৃষকদল নেতা আমান হত্যা মামলায় তিনি আসামি হওয়ায় তার সাতক্ষীরাতে আসতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে দলের এই অবস্থায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অবস্থা এমন যে, তাদের মধ্যে আলো জ্বালানোর কেউ নেই। তারা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ না থাকায় জেলা বিএনপিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা কথা বললে বর্তমান সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশ বলেন, “সাতক্ষীরাকে যেভাবে দেখছেন এখানকার পরিস্থিতি সেরকম নয়। কারণ আন্দোলন বন্ধ হয়ে গেলেও এখানকার প্রশাসন এখনও ২০ দলের নেতাকর্মীদের ওপর আগের মতো আচারণ করছে। সাংগঠনিক কাজ করতে দেয় না। যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “সাতক্ষীরার মতো জায়গায় জামায়াত যেখানে ঘরে উঠে গেছে সেখানে আমরা ঘরোয়াভাবে হলেও কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে থাকি।”

আর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিমের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।






মন্তব্য চালু নেই