মেইন ম্যেনু

সাদ্দামকে সরাতে ভয়াবহ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন ব্লেয়ার

যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এক্ষেত্রে তিনি ভয়াবহ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদকে থোড়াই কেয়ার করেছেন। যুদ্ধে লিপ্ত সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আত্মজীবনীমুলক বই ‘ব্রোকেন ভোজ’-এ এসব কথা লিখেছেন টম বোয়ার। এতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার।

সেনাবাহিনীর প্রধানগণ, সরকারি বড় বড় কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাক্ষাতকার ভিত্তিক এ বইয়ে বলা হয়েছে কিভাবে টনি ব্লেয়ার তার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ, কেবিনেট সেক্রেটারি, ফরেন সেক্রেটারি, ডিফেন্স সেক্রেটারি ও মন্ত্রিপরিষদের বেশির ভাগ সদস্যকে কিভাবে অন্ধকারে রেখেছিলেন। ইরাক যুদ্ধে যথাযথ পরিকল্পনা নেয়ার অনুমতি তিনি দেননি। কারণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন, তিনি সৎভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছেন।

সেনাবাহিনী সরঞ্জাম চেয়ে পায় নি। এর ফলে বৃটিশ সেনারা পর্যাপ্ত শরীর রক্ষাকারী সরঞ্জামের অভাবে মারা পড়েছে যুদ্ধ শুরু হলে। তখন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ এডমিরাল স্যার মাইক বয়সে তখনকার প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে সতর্ক করেছিলেন।

টনি ব্লেয়ারের কাছে ডিফেন্স সেক্রেটারি বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিওফ হুন বলেছিলেন, আমাদের মেশিন গান, শরীর রক্ষাকারী ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের প্রয়োজন। জবাবে টনি ব্লেয়ার বলেছিলেন- না। আমি ইরাকে অস্ত্র পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি চেয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। উল্লেখ্য, টম বোয়ার একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তিনি তার আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন কিভাবে টনি ব্লেয়ার বৃটেনকে ইরাক যুদ্ধে টেনে নিয়ে যান। তার এ বই প্রকাশ হওয়ায় স্যার জন চিলকোট অনেকটা চাপেই পড়বেন।

কারণ, তিনি ইরাক যুদ্ধ নিয়ে অনুসন্ধান করছেন। ৬ বছর অনুসন্ধানের পর তার সেই অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ হতে যাচ্ছে শিগগিরই। টম বোয়ার তার বইয়ে লিখেছেন, নিজের সত্যিকার উদ্দেশ্য যাতে বাইরে প্রকাশ না পায় সে জন্য মন্ত্রিপরিষদ ও সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিজের পরিকল্পনা গোপন রাখতেন টনি ব্লেয়ার। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাইরে রাখতেন। যুদ্ধ পরবর্তী ইরাক নিয়ে যথাযথ পরিকল্পনার আহ্বান তিনি এড়িয়ে চলতেন।

বলতেন, ওটা আমেরিকানরা দেখবে। তিনি যুদ্ধ চলাকালে এডমিরাল বয়সে থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে বাধ্য হয়ে সে পরিকল্পনা বাদ দেন। সেনাবাহিনী থেকে বলা হতো, ইরাক যুদ্ধ ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরিণতি লাভ করতে পারে। এ সতর্কতাকে থোড়াই কেয়ার করতেন ব্লেয়ার।

-মানবজমিন






মন্তব্য চালু নেই