মেইন ম্যেনু

সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এনবিআর

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

চলতি অর্থ বছরে সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাব্য ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৮ কোটি টাকায় আদায় করতে যাচ্ছে।

যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেশি। এনবিআরের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আর এর মাধ্যমে গত দুই অর্থ বছরে টানা ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পর পর দুই অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা ঘাটতির মুখে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

রাজস্ব আদায়ের ভবিষ্যত কৌশল ও অগ্রগতি নিয়ে গত ৮ জুন এনবিআরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয় বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করে।

ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এনবিআর প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর বাবদ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ৪৯ হাজার ২২৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। যেখানে আয়করে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৯ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা কমিয়ে ওই একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।

এর আগে অর্থবছরের শুরুতে আয়কর খাতকে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

Chatএকইভাবে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা নির্ধারন করা হয়েছিল। আর এই খাতেও এনবিআরের হিসেবে রাজস্ব আদায় হবে। অর্থ্যাৎ এখানেও কোন ঘাটতি থাকছে না।

এর আগে চলতি অর্থবছরের শুরুতে এ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

তবে এনবিআর যে খাতে সবচেয়ে বেশী সাফল্য অর্জন করতে যাচ্ছে তা হলো শুল্ক খাত থেকে। যেখানে চলতি বছর শুল্ক বাবদ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা নতুন করে যোগ করে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ছিল ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এরপরও এ লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেশি। অর্থ্যাৎ রাজস্ব আদায়ের তিনটি খাত মিলে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ের সামগ্রিক হিসাব বিবেচনায় নিয়েই সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে। তবে এখনই এনবিআর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিচ্ছে না। পুরো রাজস্ব আদায় হওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘোষনা আসবে।

চলতি অর্থ বছরে শুরু থেকে বিএনপিসহ ২০ দলের টানা হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচীর কারণে রাজস্ব আদায়ে বিপর্যয়ের আশংকা ছিল অর্থনীতিবিদদের। এমনকি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ ও বাংলাদেশ ইকোনমিক আপডেটসহ বেশ কিছু প্রকাশনায় চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ২৫ থেকে ২৬ হাজার কোটি হওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এপ্রিল মাসে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গত ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরেও ৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই