মেইন ম্যেনু

‘সাবাশ বাংলাদেশ আমরাই বানিয়েছি, জানি এখানে কীভাবে বসতে হয়’

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি: ‘সাবাশ বাংলাদেশ তো আমরাই বানিয়েছি, জানি এখানে কিভাবে বসতে হয়। আর আপনাদের কাছ থেকেও শিখতে হবে না।’এই কথা ও উদ্ধত আচরণ করে জুতা পায়ে সাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্যের বেদীতে বসা বহিরাগত কয়েকজন স্থানীয় তরুণ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক বহিরাগত তরুণদের জুতা খুলে বসতে অনুরোধ করলে এরুপ অশোভনীয় আচরণ করে তারা। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, ৮-১০ জন স্থানীয় যুবক সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরে জুতা পায়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। তখন আমরা জুতা খুলে বসতে তাদেরকে অনুরোধ করলে, তারা এই চত্বর তৈরি করেছি দাবি করে। তারা বলে, কিভাবে এখানে বসতে হয় আমরা জানি। আর সাবাশ বাংলাদেশ চত্বর কিভাবে ব্যবহার করবো সেটা আপনাদের কাছ থেকে শিখতে হবে না। এসময় তারা স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় আছে বলে আমাদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করে। তাদের মধ্যে একজন জিসানের বাসা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে ও কলেজ শিক্ষার্থী। অপরজন মেজবাহর বাসা রাজশাহী নগরীর সাধুর মোড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি জুতা পায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত ভাস্কর্যগুলোতে জুতা পায়ে উঠতে দেখি। আরো আশ্চর্য হই যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পরও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়না।

কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত ভাস্কর্যগুলোতে জুতা পায়ে উঠা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা করা। ক্যাম্পাসের জোহা চত্বর, শহীদ মিনার ও বদ্ধভুমিতে এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এ ধরনের অবমাননা রোধে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। তবেই মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি আমাদের যে সম্মান, শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ সেটা পূর্ণতা পাবে।

স্বাধীনতার ভাস্কর্য বা স্থাপনাগুলোতে জুতা পায়ে উঠার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তুনু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ও শহীদদের ঋণ স্বীকার করার জন্য অবশ্যই ভাস্কর্য বা বেদীমুলে চলাচলে শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বহিরাগতদের সকলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তবে যদি কখনও কেউ এ স্থাপনাগুলোকে অবমাননা করে তবে আমাদের উচিত তাদেরকে বিরত করা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগতরা যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ থাকে। তবে বর্তমানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক ভালো না। তাই স্থানীয় বহিরাগতরা ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করছে। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এ রকম ঝামেলা করবে বলে আমরা অনুধাবন করতে পারছি। তারপরও আমরা এগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি।






মন্তব্য চালু নেই