মেইন ম্যেনু

সামান্য এক মুঠো ভাত এনে দিল একফালি হাসি : শুনুন ক্ষুধায় কাতর এক বৃদ্ধার গল্প

কিছুক্ষণ আগে রেলগেটে আমার কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হটাৎ করে আমাদের সামনে এক জীর্ণশীর্ণ শরীরের এক বৃদ্ধা এসে কিছু সাহায্য চাইলেন। কিসের জন্য জানেন? সামান্য একটু ভাত খাবেন। ওনার মুখটা দেখে ভীষণ মায়া লাগলো। জিগ্যেস করলাম ওনারকে কে আছে আর থাকেন কোথায়। উনি ওনার মেয়ের বাড়িতে আশ্রিত থাকেন। আর যখন যা ভিক্ষা করে পান, তা দিয়ে তার পেটের জোগান চলে।

ওনাকে আমি জিগ্যেস করলাম যে, উনি কিছু খাবেন কিনা? উনি রাজি হলে ওনাকে নিয়ে আমরা গেলাম, বিন্দু হোটেলে। সেখানে তার ইচ্ছাতে তাকে, কাতল মাছ আর ভাজি দাওয়া হল। পরম তৃপ্তিতে তিনি খেলেন, দেখে ভাল লাগলো।

আমরা সাধারনত আমাদের স্বার্থ পূর্ণ হওয়ার পরে, সামান্য একটা ধন্যবাদ জানাতেও কার্পণ্য করি, তবে এই বৃদ্ধা খাওয়া শেষ করে, সোজা আমাদের কাছে এসে দাঁড়ালো। না কোন ভিক্ষার জন্য নয়। কাছে এসে তিনি কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারলেন না, মুখে একটা মলিন হাসি আর চোখে সামান্য পানি দেখতে পেয়ে বুঝলাম, আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাচ্ছেন। তাকে সেই সুযোগটা না দিয়ে মানিব্যাগ থেকে ছোট্ট একটি টাকার নোট বাড়িয়ে দিলাম। প্রথমে নিতে চাননি, জোর করেই দিলাম।

আসলে অনেকে বলে শহরের ব্যস্ত জীবন আমাদের অনেকটা যান্ত্রিক করে দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কি আমরা যান্ত্রিক হয়ে গেছি ?? কই আমিতো আমার মধ্যে যান্ত্রিকতা দেখতে পাইনা। আমি কি আজ ওই বৃদ্ধাকে খাওয়ালাম, সেটাতে কি আমার খুব ক্ষতি হয়ে গেল ?? সব কিছু কি টাকা দিয়ে মাপা যায় ? যায়না।

আমরা চেষ্টা করলেই এই মানুষগুলির মুখে সামান্য একটা দিনের জন্য হাসি ফোটাতে পারি। সেই হাসি সেই সন্তুষ্টি আমার ও আমাদের আসল অর্জন।

ভেবে দেখুনতো, আপনার পাশে একজন অভুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাতে কি আপনার খুব ভাল লাগছে ?? আমি বলছিনা যে আপনাকে আপনার পকেট খালি করে অথবা নিজের শখ বাদ দিয়ে এইসব মানুষদের এক বেলা খাওয়াতে। কিন্তু কিছুটা সন্তুষ্টি এদের দিতে পারিতো আমরা smile emoticon.

আসুন না সবাই একটু একটু করে আমাদের আশে পাশের এই মানুষগুলোর পাশে এসে দাড়াই। সুন্দর দেশ চাই ?? আগে সুন্দর একটা মন গড়ি, দেশ এমনিতেই সুন্দর হয়ে যাবে।

তৌহিদ ফেরদৌস তন্ময় এর ফেসবুক থেকে নেওয়া






মন্তব্য চালু নেই