মেইন ম্যেনু

সারাজীবন আড়ালে থাকার চেষ্টা করেছি

জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান। এবারের বইমেলায় এসেছে তার লেখা প্রথম কবিতার বই ‘আজো, কেউ হাঁটে অবিরাম’। বইটি প্রকাশ করেছে তাম্রলিপি প্রকাশনী। বইটি ইতোমধ্যেই এবারের বইমেলায় বেস্টসেলারের তালিকায় রয়েছে। প্রায়ই তিনি বইমেলা প্রাঙ্গণে আসেন। তাম্রলিপির স্টলের সামনে চেয়ার পেতে বসেন। দূর থেকে দেখেন দর্শনার্থী ও তাদের বই বিকিকিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তাম্রলিপি প্রকাশনীর সামনেই কাদামাখা উদ্যানে একটি সবুজ চেয়ারে বসেছিলেন গুলতেকিন খান। এ সময় জানান, নিজের প্রথম বই ও লেখালেখি সম্পর্কে কিছু কথা।

গুলতেকিন বলেন, ‘লেখার জগতে আমি পরিচিত মুখ না। সারাজীবন মিডিয়া থেকে দূরে, আড়ালে থাকার চেষ্টা করেছি। তবে আমার লেখা বই বেশ বিক্রি হচ্ছে শুনে খুব ভালো লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘তাম্রলিপির স্টলের সামনে যখন বসে দেখি মুহম্মদ জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ‘ক্রেনিয়াল’ বইটি অনেক পাঠক কিনছে, তখন তা দেখতে ভালো লাগে। এর ফাঁকেও যখন দেখি আমার কবিতার বইটিও কিনছে, তখন আরও ভালো লাগে। ওইসময় ‘ক্রেনিয়াল’ হয়তো দশ কপি কিনছে আর আমার বইটি এক কপি চাইলো, সে সময় আমার ভেতরে এক ধরনের ভালোলাগা কাজ করে।’

‘শুধু বই কিনলে তো হবে না, পড়তেও হবে। মনে হয়, যদি জানতে পারতাম আমার বইটি পড়ে পাঠকের কেমন লাগছে, তাহলে আরও ভালো লাগতো’, বলেন গুলতেকিন।

তিনি বলেন, ‘কবির আলাদা ভুবন আছে। কোনো লাইন যদি কারও জীবনের সঙ্গে মিলে যায়, তা হলে আমার আরও ভালো লাগবে।’

প্রথম কবিতার বইটি সম্পর্কে গুলতেকিন খান বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে বইটি লেখা। মোট ৩৫টি কবিতা আছে এতে। আবার কবে বই বের করতে পারবো, জানি না। বই করবো ভেবে এ কবিতাগুলো লেখা হয়নি।’

কবিতার বইয়ের পাঠক কম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নিজে যেহেতু বই কিনি, তাই জানতাম না কবিতার পাঠক কম। তাম্রলিপির প্রকাশক রনি ভাইকে একবার বলেছিলাম, যদি কখনও বই বের করি তাহলে তাকেই দেবো।’

‘কতো কপি ছাপবেন? রনি ভাইকে এ প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ৫০০ কপি, এর বেশি বিক্রি হয় না। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো’, অবাক চোখে বললেন গুলতেকিন।

তিনি আরো বলেন, ‘কবিতার বই ছাপানোর কথা বলে প্রকাশককে বিপদে ফেললাম বলে মনে হলো। এখন যখন শুনছি, আমার বই বেশ বিক্রি হচ্ছে, তখন খুব ভালো লাগছে।’

কবিতার বইয়ের পাঠক কম বলে হতাশ নন গুলতেকিন। যদিও বিক্রি বেশি অন্যান্য বইয়ের। তিনি বলেন, ‘এখানে বসেই আমি দেখলাম, মানুষ উপন্যাস, ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের বই বেশি কিনছে। বিজ্ঞানের বই কিনছে। কবিতার বই খুব একটা কিনছে না। আসলেই কবিতার পাঠক খুব কম।’

তবে উপন্যাস আর কবিতার বইয়ের সঙ্গে তুলনায় যেতে চান না গুলতেকিন খান। বলেন, ‘কবিতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করা ঠিক না। কবিতার ব্যাপার আলাদা।’

উপন্যাস লেখার ইচ্ছে আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে গুলতেকিন বলেন, ‘এখনও ভেবে দেখিনি। কবিতার বইটির ব্যাপারেও কোনো ভাবনা ছিল না। তবে কবিতা লিখতে আমরা ভালো লাগে।’বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই