মেইন ম্যেনু

‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ নিহতদের লাশ গেল কই?

কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের রণপ্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যে বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, সেটা হলো- পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’।

‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সফল দাবি করে ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে, বিষয়টি ‘ভিত্তিহীন’ প্রমাণে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র সাতটি স্পটের দুটিতে সাংবাদিকদের ঘুরিয়ে এনেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, স্পেশাল ফোর্সের প্যারা-কমান্ডোর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অভ্যন্তরে সাতটি জঙ্গি ‘লঞ্চ প্যাডে’ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে।

তাদের দাবি, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্যারা-কমান্ডোরা সফলভাবে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সম্পন্ন করে। এতে সাতটি জঙ্গি ‘লঞ্চ প্যাড’ ধ্বংস এবং ‘বহু’ জঙ্গি হতাহত হয়। অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে, হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করে।

পাকিস্তান তাদের দুই সেনা নিহত এবং নয়জন আহতের বিষয়টি স্বীকার করলেও ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, ভারতীয় বাহিনীর গোলাবর্ষণে ওই দুই সেনা নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, পাক বাহিনীর পাল্টা হামলায় দুটি স্পটে ১৪ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া এক ভারতীয় সেনাকে আটক করা হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানালেও, তারা কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেনি।

অবশ্য ভারত তাদের এক সেনা নিখোঁজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছে, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র পর ওই সেনা ‘ভুলক্রমে’ সীমান্ত অতিক্রম করে আটক হয়েছে। তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এমনকি পাকিস্তানের একাধিক চ্যানেল ‘নিহত কয়েকজন ভারতীয় সেনার’ লাশের ফুটেজও প্রচার করেছে। সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনীর হামলার ভয়ে লাশগুলো আনতে পারছে না পাক বাহিনী।

তবে ভারতের সেনাবাহিনী এমন দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, পুরনো ফুটেজ সম্পাদনা করে ওই ভিডিও ফুটেজ বানানো হয়েছে। ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ অংশ নেয়া সব প্যারা-কমান্ডো অভিযান শেষে নিরাপদে ফিরেছেন।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তাদের দুই সেনার জানাজা হয়েছে। তবে সেখানে অন্য কারও জানাজা ও দাফনের খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি সেখানকার কোনো পরিবার তাদের কোনো সদস্য নিহত হয়েছে বলেও গণমাধ্যমকে জানায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে দাবি করা হয়েছিল, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ হেলবর্ন (হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান যাওয়া) সদস্যদের ব্যবহার করা হয়েছে। পরে অবশ্য ব্যাখ্যায় বলা হয়, ওই হেলিকপ্টার লাইন অব কট্রোল (সামীন্ত) অতিক্রম করেনি।

সবকিছু মিলিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বিতর্ক থামছে না। দুই দেশের সেনাবাহিনী ও সংবাদমাধ্যম নিজেদের মতো করে বিষয়টি উপস্থাপন করে আসছে।






মন্তব্য চালু নেই