মেইন ম্যেনু

সালাহউদ্দীনের পদত্যাগের দাবি সাবেক ফুটবলারদের

ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের ফুটবল। ফেডারেশনের দূরদৃষ্টির অভাব, দুর্নীতি, অবস্থাপনায় এক সময়ের দেশের ঐতিহ্যের ফুটবল এখন খাদের কিনারায়। টানা ব্যর্থতার পর দেশের মাটিতে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপেও একই চিত্র। নিম্মমানের বিদেশি দল এনেও সেখানে ভরাডুবি বাংলাদেশের। ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা কাজী সালাহউদ্দীনের পদত্যাগ চেয়ে মিছিল করলেন। ফুটবলের ক্রান্তিকালে তারা হতাশ, ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।

বাংলাদেশ ফুটবলের এ করুণ দশায় হতাশ সাবেক ফুটবলাররাও। তারা এ জন্য দায়ী করছেন বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দীনকে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাকে ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা। সাবেক তারকা ফুটবলার গোলাম রব্বানি হেলাল বলেন,‘ ফুটবল ফেডারেশেন থেকে তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিৎ। তিনি বাংলাদেশ ফুটবলের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছেন। ফেডারেশনের চেয়ারে বসে তিনি যাচ্ছেতাই করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে গত বছর একটি নিম্মমানের টুর্নামেন্টে আয়োজন করা হয়েছিল। সাফে ব্যর্থতার পর মুখ বাঁচাতে এবার তার চেয়েও নিম্মমানের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলো। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবলের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, এবারও ব্যর্থ দল। যেনতেন এ টুর্নামেন্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে যে খুশি করার ছক এঁকেছিলেন সেটা সফল হয়নি। এখন পদত্যগ করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই সালাহউদ্দীনের। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা তার পদত্যাগ চেয়ে মিছিল করেছে। এটা সবার দাবি। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা ভালো বুঝেন। সালাহউদ্দীনের কোন চালই এবার কাজে আসবে না। তিনি যত তাড়াতাড়ি বাফুফে থেকে পদত্যাগ করেন ততই মঙ্গল। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি গ্রেট। খেলোয়াড় সালাহউদ্দীনকে আমি সবসময়ই স্যালুট দেই। কিন্তু সংগঠক হিসেবে তিনি সম্পূণ অযোগ্য। সংগঠক হিসেবে তিনি ফুটবলের জন্য বড়ই ক্ষতিকর।’

২০০৯ সালে বাফুফে’র সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কাজী সালাউদ্দিন শুনিয়ে আসছেন নানা জারিজুরি। ২০২২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে সালাহউদ্দীনের এ অবাস্তব পরিকল্পনা সেরা প্রহসনে পরিণিত হয়। এশিয়ার সেরা দলের অংশগ্রহণে এশিয়ার অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। বারবার এমন ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর মত ব্যক্তিত্বের নামে এ কোন মানের টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন? এ কেমন ছলচাতুরি বাফুফের? বলা হয়েছিল মালয়েশিয়া জাতীয় দল অংশ নিবে। টুর্নামেন্ট পোস্টারেও লেখা মালয়েশিয়ার নাম।পরে শোনা গেল জাতীয় দল নয়, অংশ নিচ্ছে মালয়েশিয়া একাদশ।

কিন্তু সেটাও না! বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে অংশ নেয় মালয়েশিয়ার সাধারণ মানের একটি ক্লাব। সেখানকার লীগে যাদের অবস্থান পঞ্চম। অথচ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতার পরই তড়িঘড়ি করে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বাফুফে জানিয়েছিল, শক্তিশালি জাতীয় দল অংশ নিবে টুর্নামেন্টে । কিন্তু সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে আস্তে আস্তে সবকিছু পরিষ্কার। জাতীয় দল তো দূরের কথা, পুরোশক্তির অনূর্ধ্ব-২৩ দলও পাঠায়ানি কেউ। শ্রীলংকা দলে অনূর্ধ্ব-২৩’র আট খেলোয়াড়, মালদ্বীপে পাঁচ, মালয়েশিয়া পাঠায় তাদের লিগের পঞ্চম স্থানের ক্লাব দল ফেল্ডা ইউনাইটেড’কে, তাও পুরোশক্তির নয়, বিদেশি ফুটবলার বাদ দিয়ে নবীন ও তরুণদের নিয়ে গড়া কম শক্তির দল। জাতীয় দল পাঠায়নি বাহরাইনও। অথচ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলে অধিনায়ক রেজাউল, শিফাত, জিয়াউর ও অরুপ বৈদ্য সহ বেশ কয়েকজন ফুটবলার ছিলের যারা জাতীয় দলের ।

উদ্দেশ্য, যেভাবেই হোক বাংলাদেশের একটি দলকে ফাইনালে তোলা এমনকি চ্যাম্পিয়ন করা। তারপর কমজোরি দলগুলোর বিপক্ষে লাল-সবুজের সাফল্যকে কথার ছলচাতুরিতে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে সাফের টানা ব্যর্থতাকে আড়াল করা। আর নিজের আসন ফের পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেই হিসেবও টিকেনি সালাহউদ্দীনের।

সাফ ব্যর্থতার পরপরই এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা একদমই ঠিক হয়নি বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। এটা দেশের ফুটবলকে যেমন আরেক ধাপ পেছনে নিয়ে গেছে, তেমনি খেলোয়াড়দের মনোবলও ভেঙ্গে দিয়েছে। আমিনুল হক বলেন,‘ একজন ফুটবলার হিসেবে আমি খুব হতাশ। ফুটবলের এই করুণ অবস্থার জন্য আমি দায়ী করব কাজী সালাহউদ্দীনকে। ফুটবল ফেডারেশন থেকে তাকে সরাতে হবে। গত সাত বছরে তিনি ফুটবলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে তাকে সরতেই হবে।’

সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম বলেন,‘ আসলে ফুটবল উন্নয়নে বাফুফে ভাল কোনও পরিকল্পনাই নিতে পারেনি। সালাহউদ্দীন সাহেব কারও কথা শুনেন না। তিনি একগুয়ে। সবার মতামত নিয়ে ভালো কিছু করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। আমাদের কথা কানে তুলেননি।’

ফুটবল মানের চরম অবনতি, অব্যস্থাপনা, আর্থিক অস্বচ্ছতা নানা কারণে দেশবাসীর কাঠগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছেন বাফুফে’র সভাপতি। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। কাজী সালাউদ্দিনের মত ফুটবল কিংবদন্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর মনে করা হয়েছিল, এবার সুদিন আসবে বাংলাদেশ ফুটবলে। কিন্তু ফল হয়েছে ঠিক তার উল্টো। ফুটবল মহল মনে করছে বাফুফেতে শেষ হয়ে আসছে সালাহউদ্দীন যুগ।






মন্তব্য চালু নেই