মেইন ম্যেনু

সাহসিকতার স্বীকৃতি পাচ্ছেন যারা

সাহসিকতা ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জনকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘বিপিএম’ ‘পিপিএম’ পদক দেয়া হবে। আগামী মঙ্গলবার পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে রাজারবাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০২ জন পুলিশ সদস্যকে এ পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চার ক্যাটাগরিতে এবারের পদক দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এর একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে মরণোত্তর ছয়জনসহ মোট ১৯ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃংখলামূলক আচরণের জন্য ২৩ জনকে ‘বিপিএম-সেবা’ ও ৪০ জনকে ‘পিপিএম-সেবা’ পদক প্রদান করা হচ্ছে।

পুরস্কার পাচ্ছেন যারা : আইনশৃংখলা রক্ষায় সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও জনসেবার জন্য এবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) পাচ্ছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। তিনি এর আগে দু’বার পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সাহসিকতা) ও একবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) লাভ করেন। জিয়াউল আহসানই র‌্যাবে প্রেষণে কর্মরত একমাত্র সেনা কর্মকর্তা, যিনি চারবার পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বিপিএম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার পিপিএম পদকে ভূষিত হলেন।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) প্রাপ্তদের তালিকায় আছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি মইনুর রহমান চৌধুরী, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মাহবুব হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান, র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব আলম, র‌্যাব সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন্স) লে. কর্নেল কেএম আজাদ, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, রংপুরের পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া ও এআইজি (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, র‌্যাব-১২-এর সিসিপি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএম হাসানুল জাহিদ, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহ।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আ. রাজ্জাক খান ও পরিদর্শক নূর হোসেনকে পিপিএম’র জন্য মনোনীত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ মণ্ডলকেও পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জেহাদ হোসেনকে ‘বিপিএম-সেবা’ পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) মনোনীতরা হলেন, র‌্যাব-৭-এর মেজর মোজাম্মেল হোসেন ও সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক মেজর মোস্তাফিজুর রহমান, র‌্যাব-৬-এর লে. কমান্ডার মোহাম্মদ মাহ্ফুজুল ইসলাম, ঈশ্বরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি বর্তমানে গৌরীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান, সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান, খুলনার কয়রা থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার, টাঙ্গাইল ডিবি’র ওসি গোলাম মাহফিজুর রহমান, পলাশবাড়ী থানার ওসি মজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম, খুলনা সদর থানার এসআই কাজী মোস্তক আহম্মদ, ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মফিজুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনাল টিমের এসআই দীপক কুমার দাস, সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই মোজাম্মেল হক, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের এসআই মোতাহার হোসেন, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ, ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের সার্জেন্ট গোলাম মওলা, র‌্যাব-৫-এ কর্মরত নায়েক নূর ইসলাম, খুলনার দিঘলিয়া থানার কনস্টেবল শ্রী বিপিন চাঁদ অধিকারী ও র‌্যাব-১৩-এ কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল গোলাম রব্বানী।

এছাড়া পিপিএম-সেবা’র জন্য মনোনীতরা হলেন, ঢাকা হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি মল্লিক ফকরুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার বশির আহম্মদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার কাইয়ুমুজ্জামান, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার প্রবীর কুমার রায়, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার এম মোতাহার হোসেন, উপ-পরিচালক আহসান হাবিব রাজীব, র‌্যাব-৮-এর মেজর আবুল বাশার, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, ঢাকা মহানগর পুলিশের পূর্ব বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার খোন্দকার নুরুন্নবী, ঢাকা দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান, মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম, ঢাকা মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মুক্তা ধর, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম নাজমুল হক, মাহফুজুল আলম রাসেল ও স্নিগ্ধ আখতার, বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহনাজ পারভীন, ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান ফিরোজ, পুলিশের তদন্ত সংস্থা সিআইডি’র মতিঝিল ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক আবু বকর।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৪৯টি থানার মধ্যে মাত্র তিনজন ওসি পিপিএম-সেবা পদক পাচ্ছেন। তারা হলেন পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির, পল্টন মডেল থানার ওসি মোরশেদ আলম ও তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। এদের মধ্যে দাদন ফকির তার এলাকায় অপরাধ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আর পল্টন থানার ওসি মোরশেদ আলম জামায়াত-বিএনপির রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলায় সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পল্টন এলাকার আদম ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালান। এমনকি পল্টন এলাকার অপরাধ প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন মাগুরা জেলা ডিবি’র ওসি ইমাউল হক, লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোহাম্মদ আবুল বাসার, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডেমরা জোনাল টিমের এসআই জাহিদুল ইসলাম, রংপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই শফিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ডবলমুরিং থানার এএসআই পল্টু বড়ুয়া।

পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) মনোনীতরা হলেন, র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের উপ-পরিচালক মেজর খালিদ ইবনে হোসেন, র‌্যাব-১২-এর এসআই মনিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম, যশোর পুলিশ লাইনসের এএসআই হায়দার আলী, র‌্যাব-৫-এর এএসআই আল এমরান, ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিবহন বিভাগের চালক কনস্টেবল মোর্শেদ আলম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের কনস্টেবল জাহিদুর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কনস্টেবল মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বন্দর বিভাগের কনস্টেবল মনির হোসেন, ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার কনস্টেবল সৈকত হোসেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের পিওএম দক্ষিণ বিভাগের কনস্টেবল শাহিদুর রহমান, আরআরএফ চট্টগ্রামে কর্মরত কনস্টেবল বায়েজিদ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম।

এছাড়া ছয়জন পুলিশ সদস্যকে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদকে (বিপিএম) ভূষিত করা হচ্ছে। এরা হলেন, সিলেটের ওসমানী নগর থানার সাবেক ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের এএসআই মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরদী থানার পাকশী ফাঁড়ির এটিএসআই সুজাউল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দারুস সালাম থানার এএসআই ইব্রাহীম মোল্লা, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ হোসেন ও মেহেরপুর জেলা পুলিশের কনস্টেবল আলাউদ্দিন আহমেদ।






মন্তব্য চালু নেই