মেইন ম্যেনু

সাড়ে ৩ বছরেও কাটেনি ইউএই’র ভিসা জটিলতা

নানামুখি উদ্যোগেও বাংলাদেশিদের জন্য খুলছে না সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ শ্রমবাজার। সরকারি পর্যায়ে এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে, আশ্বাসও মিলেছে ইউএই সরকারের পক্ষে। আলোচনা, আশ্বাস কোনটাই কার্যকর হয়নি গত সাড়ে তিন বছরে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনশক্তি পাঠানো বন্ধ হয়ে যায় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় পর্যন্ত দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানির সংখ্যা ছিল মাসে ৩০ থেকে ৩৩ হাজার। বর্তমানে দেশটিতে ১০ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। বন্ধ না হলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারতো।

অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে বাংলাদেশের জনশক্তি আমদানির ওপর ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউএই সরকার। আরো কারণ থাকলেও এটাকেই প্রধান হিসেবে দেখছেন ইউএইতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আর কোনো শ্রমিক না নেয়ারও সিদ্ধান্ত আছে দেশটির সরকারের, যা সম্পর্কের কারণে গোপন রাখতে চাইছে তারা।

ইউএইতে কর্মরত ব্যক্তিদের অভিযোগ, একশ্রেণির জনশক্তি রপ্তানিকারক ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে মুক্ত ভিসায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করতো। কিন্তু কর্মস্থলে গিয়ে দেখা গেছে বেতন মাত্র ৫ থেকে ৬’শ দেরহাম। চাকরির মেয়াদ দুই বছর। এসময়ে থাকা-খাওয়ার খরচ শেষে আমিরাতে আসার খরচ বাবদ নেয়া ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে উঠে। ফলে কর্মস্থল ছাড়ার আগে শ্রমিকরা বাড়তি টাকা আয়ের জন্য জড়িয়ে পড়ত নানা অপরাধমূলক কাজে।

ভিসা বন্ধ থাকায় কর্মী না আনতে পারায় বাংলাদেশি অনেক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। পরিচালক দেখিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু সংখ্যক কর্মি আনার ব্যবস্থাএখনো আছে। তবে এ প্রক্রিয়া বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সেভাবে আসা সম্ভব হচ্ছে না। গেল ডিসেম্বর ওই সুযোগও অনেক কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় আশা করা হয়েছিল যে, ভিসা জটিলতা কাটবে। আশ্বাসও মিলেছিল সেইমত। ঢাকায় আমিরাতের ভিসা অফিস খোলারও কথা হয়েছিল। আমিরাতে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান জানান, ঢাকায় ভিসা অফিস খোলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ভিসা জটিলতা অবসানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং সুরাহার উদ্যোগ নেবেন।






মন্তব্য চালু নেই