মেইন ম্যেনু

সাড়ে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের নখ রেখে বিশ্ব রেকর্ড

নিয়মিত নখ কাটা স্বাস্থ্যকর হলেও সেই কাজটি ৬২ বছর ধরে না করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন শ্রীধর চিল্লাই নামে এক ভারতীয়। ১৬ বছর বয়স থেকে কখনোই আর বাম হাতের পাঁচটি আঙুলে ছুরি, কাঁচি বা ব্লেড চালাননি শ্রীধর। ৭৮ বছর বয়সী ওই ভারতীয় সর্বোচ্চ ধৈর্ঘ্যের নখ রাখায় ২০১৬ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

নখ পাঁচটির মধ্যে বুড়ো আঙুলের নখের দৈর্ঘ্য দুই মিটার (সাড়ে ছয় ফুট), মধ্যমা ১৮৬.৬ সেন্টিমিটার, অনামিকা ১৮১.৬ সেন্টিমিটার, কনিষ্ঠা ১৭৯.১ সেন্টিমিটার এবং তর্জনী ১৬৪.৫ সেন্টিমিটার।

নখ বড় রাখার কারণ জানাতে শ্রীধর বলেন, যখন আমি স্কুলে পড়তাম তখন একবার এক শিক্ষক আমাদের বেদম পিটিয়েছিলেন। কারণ আমার এক বন্ধু শিক্ষকের দীর্ঘ নখ ভেঙে ফেলেছিল। পরে ওই শিক্ষকের কাছে জানতে চাই সামান্য নখ ভেঙে ফেলায় কেন তিনি আমাদের এভাবে পেটালেন? উত্তরে শিক্ষক বলেছিলেন, তুমি নিজে নখ বড় না করলে বুঝবে না নখ ভেঙে ফেলার কষ্ট! যখন নিজের নখ বড় করবে তখন বুঝবে তাকে ভেঙে না ফেলতে কীরকম যত্ন নিতে হয়।

222

এ ঘটনার পর শ্রীধর চিল্লাই নখ বড় রাখাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে তার বাম হাতের একটি নখও না কেটে তাদের যত্ন করে চলেছেন। নখ বড় রাখতে শুরু করার পর শ্রীধরকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। তিনি বলেন, প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এরপর শিক্ষকরা বাধা দেন কিন্তু আমি মনোস্থির করে ফেলি কোনোদিনই আর নখ কাটব না।

তিনি বলেন, প্রথমদিকে নিত্যদিনের জীবনযাপনে আমাকে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। আমার পরিবার সত্যিই এটা পছন্দ করেনি, কেউ আমার কাপড় ধুতে চাইত না। বড় নখ নিয়ে কাজ যোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রেম করা ও বিয়েতেও বড় নখ প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় বলেও জানান শ্রীধর। তিনি বলেন, আমাকে কেউ বিয়ে করতে চায়নি, ১২/১৩ জন নারী আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ মেয়ের বাবা/মা রাজি হতো না, তারা ভাবতো আমি বুঝি তাদের মেয়েদের গায়ে নখের আঁচড় কেটে ফেলব। অভিভাবকরা রাজি হলেও তাদের মেয়েরা বলতো, নোংরা লোককে বিয়ে করব না।

২৯ বছর বয়সে শ্রীধর বিয়ে করেন তার ভাইয়ের শ্যালিকাকে। তিনি শুধু বাম হাতের নখ বড় করেন যাতে তার অন্য হাত দিয়ে ‍তার ফোটোগ্রাফির শখ পূরণ করতে পারেন। বর্তমানে বাম হাতের নখ পাঁচটি কেটে তা জাদুঘরে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে চান শ্রীধর। তবে কবে নখগুলি কাটবেন তা গোপন করেই রেখে দিলেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই