মেইন ম্যেনু

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট আজ বুধবার সকাল থেকে কমার কথা তিতাস জানালেও এর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং সংকট আগের মতোই রয়ে গেছে। গ্যাসের জন্য রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। প্রাইভেট কারের পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন লেগে আছে প্রায় প্রতিটি স্টেশনে। লাইনে চাপ না থাকায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না গ্যাস।

রাজধানীর তেজগাঁওসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার।

সিএনজি স্টেশনের কর্মীরা জানান, লাইনে গ্যাসের কোনো চাপই নেই। গ্যাস এতে সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। রাত ১২টার পর লাইনে কিছুটা চাপ দেখা দেয়, তখন গ্যাস ভরা যায়। তবে সকাল থেকে নিয়ে সারা দিনই লাইনে কোনো চাপ থাকে না।

সিএনজি কর্মীরা জানান, এই অবস্থা চলছে সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। কবে এই সমস্যা কাটবে তা কেউ জানে না। গতকাল রাতে তিতাস থেকে জানানো হয়েছিল, আজ বুধবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে সিএনসি অটোরিকশার ভাড়াও বেড়ে গেছে অনেক। অনেক সিএনজি অটোরিকশা রাস্তার ধারে পার্ক করে রাখা হয়েছে গ্যাস না থাকায়।

মহাখালীতে অটোরিকশা চালক জাহিদ জানান, কয়েকটি স্টেশন ঘুরে এখানে এসেছেন; দীর্ঘ সারি শেষে কখন গ্যাস মিলবে বা মিলবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ তার মনে। জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারলে খিলগাঁওয়ে নিজের গ্যারেজে কিভাবে ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে তার।

বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইনের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় বুধবার সকালের মধ্যে রাজধানীতে চলমান গ্যাস সংকটের নিরসন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন তিতাস গ্যাস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) শাহজাহান। কিন্তু বুধবার সকালেও দেখা গেছে একই দৃশ্য। কার্যত গ্যাস সংকট এখনও কাটেনি।

গত তিন/চার দিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় চুলায় আগুন ধরানো যাচ্ছে না। অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে মিটমিট করে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি আবাসিক গ্রাহকদের।

তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) মীর মশিউর রহমান সমস্যার বিষয় স্বীকার করে বলেন, সংস্কার কাজের জন্য এক হাজার ৮০০ থেকে প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সার্বোচ্চ এক হাজার সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে মঙ্গলবার রাতে বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইনের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় এ সংকটের অবসান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই