মেইন ম্যেনু

সিগারেট-গুটখার বদলে লজেন্স খাওয়াবে ছাত্র-ছাত্রীরা

আপনি মহিলা হোন অথবা পুরুষ৷ আপনাকে যদি ধূমপান করতে দেখা যায়৷ অথবা, আপনাকে যদি গুটখা কিংবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহার করতে দেখা যায়৷ তা হলে, আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে লজেন্স৷

কল্পকাহিনি নয়৷ যদিও, লজেন্স খাওয়ার জন্য আপনাকে জোর করা হবে না৷ তবে, আপনাকে এমন অনুরোধ করা হবে যে, সিগারেট-বিড়ি অথবা গুটখা কিংবা তামাকজাত কোনও দ্রব্য ফেলে দিয়ে লজেন্স খান৷ আর, যাঁদেরকে ধূমপান অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহার করতে দেখা যাবে না, তাঁদেরকে সচেতন করা হবে৷ এমনই অভিনব কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছে পড়ুয়ারা৷

মঙ্গলবার, ৩১ মে আন্তর্জাতিক তামাক বর্জন দিবস৷ ধূমপান অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহারের জেরে কীভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি, তার উপর পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মেডিকেল ব্যাংক৷ উত্তর কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের তরফে ৩১ মে শোভাবাজার মেট্রো রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সকাল ১১টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি৷

এবং, এই কর্মসূচিতে সিগারেট-বিড়ি অথবা গুটখা কিংবা তামাকজাত কোনও দ্রব্য ফেলে দিয়ে লজেন্স খাওয়ার আবেদন করবে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী৷ ওই সব পড়ুয়া কঙ্কালের মুখোশ পরে পথচলতি ধূমপায়ী অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহারকারীর হাতে লজেন্স দিয়ে আবেদন করবে, যাতে তিনি ধূমপান অথবা তামাকজাত সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন৷ কারণ, যিনি ধূমপান করছেন, শুধুমাত্র তিনি নন৷ ওই ধূমপানের জেরে তাঁর আশপাশের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন৷

তার উপর, ধূমপান এবং তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহারের জেরে শুধুমাত্র যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়, তাও নয়৷ স্ট্রোক (ব্রেন অ্যাটাক) এবং হার্ট অ্যাটাকেরও আশঙ্কা থেকে যায়৷ এবং, ধূমপান অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহারের জেরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অবহেলিত হলে, তার প্রভাবে আবার আর্থিক সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয়৷ সব মিলিয়ে, শুধুমাত্র ধূমপায়ী অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহারকারী-ই নন, ক্ষতিগ্রস্ত হন তাঁর পরিবারের অন্যরাও৷ অথচ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায়, সচেতন হওয়া সত্ত্বেও ধূমপান অথবা তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারছেন না বহু ব্যবহারকারী৷ntd.01

মেডিকেল ব্যাংকের কর্ণধার ডি আশিসের কথায়, ‘‘ফ্যান্টাসি অথবা কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে কম বয়সিদের মধ্যেও অনেক সময় ধূমপান অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহার দেখা যায়৷ তবে, ধূমপান অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহারে যাঁরা অভ্যস্ত, তাঁদের মধ্যে যেমন আরও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন৷ তেমনই, অল্প বয়সিরা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা যাতে ধূমপান অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহার শুরু না করেন, তার জন্যেও সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি জারি রাখা উচিত৷’’ সিগারেট, বিড়ি এবং গুটখা, খৈনি, জর্দা সহ তামাকজাত অন্যান্য দ্রব্য ফেলে দিয়ে কেন ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে লজেন্স খাওয়ার আবেদন করা হচ্ছে?

ডি আশিস বলেন, ‘‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কোনও বিষয়ে বড়দের যদি ছোটদের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তা হলে ভালো কাজ হয়৷ সেই কারণে, আমাদের কর্মসূচিতে অষ্টম থেকে একাদশ শ্রেণির ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাধ্যম ধূমপায়ী অথবা তামাকজাত কোনও দ্রব্যের ব্যবহারকারীকে বলা হবে, তাঁরা যেন সিগারেট-গুটখা ফেলে দিয়ে লজেন্স খান৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কোনও স্কুলের কাছে যাতে ধূমপানের এবং তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের বিক্রি না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আমরা আবেদন করব৷’’






মন্তব্য চালু নেই