মেইন ম্যেনু

সিডরের ক্ষতি ৮ বছরেও কাটেনি ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরাবাসীর

ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আক্রান্ত মানুষগুলো সেই ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেন নি। সিডরের দিন জলোচ্ছাসে ভোলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল মেঘনা বেষ্টিত উপকূলীয় এলাকা চরফ্যাশন ও মনপুরা।

সিডরের আঘাতে চরফ্যাশনে ঢালচর, পাতিলা, কুকরী, নুরাবাদ, নিলকমল, ভাষানচর, মেঘভাসান, আসলামপুর, হাজারীগঞ্জ,ও মাদ্রাজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এসব এলাকায় সিডরের জলোচ্ছাসে অসংখ্য রাস্তা ভেঙ্গে গিয়েছিল।

বিধ্বস্ত হয়েছিল সাড়ে ৪ হাজার কাঁচা ঘর-বাড়ি।শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছিল। চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম পাটোয়ারী জানান,২০০৭ইং সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে মেঘনা পাড়ের ঢালচরে ব্যাপকভাবে কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

জলোচ্ছাসের তোরে ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে ঢালচরের আভ্যন্তরীন রুটের সড়কগুলো। সিডরের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সম্পূর্ণরুপে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। মনপুরার দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজল জানায়, সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ঘাট গুলো এখনো পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব হয় নি।

তবে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বেশ কয়েকটি স্থান এখনো মেরামত করা দরকার। মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে হাজীরহাট ইউনিয়নের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে ব্যাপক জলোচ্ছাস হয়েছে।

 

ওই জলোচ্ছাসে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হলেও সিডরের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই সড়কগুলোর অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়নি।এছাড়া চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, পাতিলা, কুকরী, বেতুয়া, চরনিউটন ও চরকচ্ছপিয়া এলাকায় আগে যেসব জমিতে ধানচাষ হতো সেসব জমির অধিকাংশই সিডর পরবর্তী মেঘনার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নিঃশেষ হতে চলেছে।

মনপুরা উপজেলারও একই চিত্র।মনপুরায় আগে যেসব জমিতে ধান চাষ হতো তার অধিকাংশ জমিই সিডর পরবর্তী নদীতে ভেঙ্গে গেছে। মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট, মনপুরা ও দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের উপর অনেকেই নির্ভরশীল ছিল।

বন বিভাগের বীট কর্মকর্তার চাঁদার দাবী পরিশোধ করতে না পারায় বন বিভাগের নিত্য বাঁধার কারনে মাছ ধরা, গাছ কাটার পারমিট না পাওয়ায় এসব এলাকার অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।চরফ্যাশন ও মনপুরার নদীর ভাঙ্গনের শিকার গৃহহারা মানুষগুলোর মধ্যে কাজের খোঁজে অনেকেই ঢাকা, বরিশাল, খুলনা,চট্রগ্রাম ও সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন শহরে চলে গিয়েছেন।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভোলার মেঘনা বেস্টিত উপকূলীয় উপজেলা মনপুরায় ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে মনপুরার প্রায় একহাজার মানুষ হতাহত হয়।

প্রাণহানি ঘটে মনপুরার কয়েকহাজার গৃহপালিত প্রাণীর।সিডরের এক সপ্তাহ পরও চরফ্যাশন ও মনপুরার মেঘনায় মানুষ,গরু,মহিষ ও হাসঁ-মুরগীর মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। এদিকে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মনপুরার বেড়িবাঁধগুলো আজও মেরামত করা হয় নি।

ফলে সিডরের ৮বছর পেরিয়ে গেলেও বেড়ীবাঁধ না হওয়ায় উপকূলবর্তী মনপুরা দূর্যোগ ঝুঁকিতেই রয়ে গেল। চরফ্যাশনেও সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধগুলো নামে মাত্র মেরামত করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধগুলো মেরামতে সরকারী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ ও রয়েছে অসংখ্য। সিডর পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধগুলো প্রয়োজন অনুপাতে মেরামত না করায় উপকূলবর্তী চরফ্যাশনের মানুষগুলো দূর্যোগ ঝুঁকিতেই রয়ে গেছে।






মন্তব্য চালু নেই